শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই, জানালেন প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের বিন্দুমাত্র কোনো আস্থা বা বিশ্বাস নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই। তেহরানের এই চরম অবিশ্বাস কোনো সাময়িক আবেগপ্রসূত বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের বৈরি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব ঘটনার ফসল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তেহরানের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।

বক্তব্যে মোহসেনি-এজেই স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করি না।” তিনি তাঁর মন্তব্যের সপক্ষে গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ বা সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, ওই সংঘাত ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল। ওই যুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য ও নীতি সম্পর্কে তেহরানের দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অবিশ্বাসকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাত ও বৈশ্বিক চাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইরান নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পেরেছে দাবি করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান তার শত্রুপক্ষের নেতৃত্ব এবং সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ও কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে।” তবে তিনি তাঁর এই দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক তথ্য, নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং মার্কিন প্রশাসনকে এই অঞ্চলে চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিচার বিভাগের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বেশি অবিশ্বাস, জটিলতা এবং সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলার কোনো সম্ভাবনা তো নেই-ই, বরং উত্তেজনার পারদ আরও বাড়তে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...