রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

তরুণীকে বারে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

সাংগঠনিক পদের প্রলোভন দেখিয়ে মদের বারে ডেকে নিয়ে এক নারী কর্মীকে যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক শীর্ষ নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিন।

ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মী নিজেই গত শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক পদ-পদবি এবং আর্থিক সুবিধার টোপ দিয়ে তাঁকে নগরের একটি অভিজাত হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে চরম ভয়ভীতি ও প্ররোচনা দেওয়া হয়।

আলোচনার নামে মদের বারে ফাঁদ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং এনসিপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দলটির সহযোগী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রত্যাশী ছিলেন। তাঁর দাবি, নারীশক্তির নতুন কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে তাঁর পূর্বপরিচিত নেত্রী সাদিয়া আফরিন গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে নগরের বিলাসবহুল ‘পেনিনসুলা হোটেল’-এ নিয়ে যান।

হোটেলের শীর্ষতলায় অবস্থিত বারে যাওয়ার পর ওই তরুণী দেখতে পান, এনসিপি নেতা সুজা উদ্দিন আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেখানে বসে আছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বারে বসার পর থেকেই সুজা উদ্দিন (যাঁকে দেখে মদ্যপ মনে হচ্ছিল) তাঁকে ক্রমাগত ধূমপান ও মদ্যপান করার জন্য জোরাজুরি এবং নানা ধরনের পানীয় নেওয়ার অফার করতে থাকেন।

‘ডিল অর ডেথ’ হুমকি ও কুৎসিত রাজনৈতিক কালচার

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, বারের ভেতরের এমন পরিবেশ দেখে তিনি তীব্র অস্বস্তি প্রকাশ করলে সঙ্গে থাকা নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাঁকে আশ্বস্ত না করে উল্টো সুজা উদ্দিনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর সাদিয়া এক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বাহানা তৈরি করে ওই তরুণীকে বারে একা রেখেই চতুরতার সাথে সেখান থেকে চলে যান। সাদিয়া চলে যাওয়ার পর সুজা উদ্দিন ওই তরুণীকে কয়েকবার তাঁর গা-ঘেঁষে পাশে এসে বসার নির্দেশ দেন এবং অত্যন্ত অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ শুরু করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক ও বিপজ্জনক দেখে ওই তরুণী দ্রুত বার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে সুজা উদ্দিন তাঁকে ‘ডিল অর ডেথ’ (হয় চুক্তি, নয় মৃত্যু) বলে সরাসরি হুমকিসদৃশ মন্তব্য করেন। একই সাথে বড় রাজনৈতিক পদ ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বশে আনার চেষ্টা করা হয়। হোটেল থেকে কোনোমতে অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে ওই তরুণী মুঠোফোনে সাদিয়া আফরিনকে এই জঘন্য ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তখন সাদিয়া আফরিন উল্টো তাকে বলেন, “রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এটাই আমাদের রাজনৈতিক কালচার।”

থানায় জিডি ও তদন্তের আশ্বাস

এই চরম অপমান ও সুরক্ষাহীনতার মুখে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী গত ১৭ জুন চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় অভিযুক্ত আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দালিখ করেন।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগের সত্যতা বা আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিনের ফোন নম্বরটি সচল থাকলেও গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


এ জাতীয় আরো খবর...