শিরোনামঃ
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন

৩ পানীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, কমাবে ক্যানসারের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক / ২ বার
প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

বর্তমানে ক্যানসার বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে (তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে) শনাক্ত হওয়ার কারণে এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সচেতনতার অভাব এবং পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে স্তন, কোলন, প্রস্টেট, ফুসফুস ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ক্যানসার সাধারণ হোক বা বিরল, সব ক্ষেত্রেই শরীরের কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটে এবং তা দ্রুত এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দৈনিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যুক্ত করলে এই মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে কয়েকটি পুষ্টিকর পানীয় রাখলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। নিচে এমনই তিনটি স্বাস্থ্যকর পানীয় এবং তা তৈরির ঘরোয়া পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:

১. সবুজ স্মুদি (Green Smoothie)

পালং শাক, শসা, কলা ও আদা দিয়ে তৈরি এই সবুজ স্মুদি শরীরে পুষ্টির জোগান দিতে দারুণ কার্যকর। এটি ফাইবার, ভিটামিন এ, সি ও ই, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রনের এক সমৃদ্ধ উৎস, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • তৈরির পদ্ধতি: প্রথমে পালং শাক গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর কলার খোসা ছাড়িয়ে এবং শসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে বা মিক্সিতে নিয়ে অল্প আদা কুচি মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। সবশেষে কাচের গ্লাসে ঢেলে উপর দিয়ে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

২. হলুদ দুধ (Golden Milk)

হলুদের প্রধান কার্যকরী উপাদান ‘কারকিউমিন’ মূলত শক্তিশালী প্রদাহরোধী (Anti-inflammatory) এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধের সাথে হলুদ, দারচিনি ও গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। গোলমরিচে থাকা ‘পিপারিন’ নামক উপাদানটি শরীরে হলুদের কারকিউমিন শোষণ করতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়া গোলমরিচে রয়েছে ফাইবার, প্রয়োজনীয় খনিজ, প্রোটিন ও শর্করা।

  • তৈরির পদ্ধতি: যাদের গরুর দুধ সহ্য হয় না বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তারা চাইলে আমন্ড বা ওটসের দুধ ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সাথে এক চামচ হলুদের গুঁড়ো, গোটা গোলমরিচ এবং দারচিনি মিশিয়ে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর হলুদ দুধ।

৩. মাচা গ্রিন টি (Matcha Green Tea)

মাচা গ্রিন টি-তে রয়েছে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, পলিফেনল এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড। এই উপাদানগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অলৌকিক উপায়ে বৃদ্ধি করার পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • তৈরির পদ্ধতি: প্রথমে এক কাপ ফুটন্ত পানির সাথে সামান্য ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিন। এবার অন্য একটি কাপে মাচা চায়ের গুঁড়োর সাথে অল্প গরম পানি মিশিয়ে একটি থকথকে মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর একটি সসপ্যানে মাচা চায়ের মিশ্রণ এবং ব্রাউন সুগার মেশানো পানি একসাথে ঢেলে কম আঁচে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন (স্বাদ বাড়াতে অনেকে এতে দুধও মেশান)। মিশ্রণটি ঘন ও সবুজ হয়ে উঠলে নামিয়ে গরম গরম পান করুন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো একক খাবার বা নির্দিষ্ট পানীয় কখনোই ক্যানসার প্রতিরোধের শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এগুলোকে মূলত একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সহায়ক অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, ক্যানসার প্রতিরোধের কোনো নিশ্চিত ওষুধ হিসেবে নয়। ক্যানসারের ঝুঁকি প্রকৃত অর্থে কমাতে হলে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি বর্জন করা, শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট বয়স পর পর নিয়মিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা (রুটিন চেকআপ) করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।


এ জাতীয় আরো খবর...