শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যার তীব্র শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

দেশের উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য আবারও এক বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দেশের কিছু কিছু পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী আরও অন্তত পাঁচ দিন পর্যন্ত একটানা অব্যাহত থাকবে। প্রধান নদীগুলোর পানি এভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নদী সংলগ্ন চরাঞ্চল এবং বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে একটি মাঝারি ও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমন উদ্ভূত প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নদীপ্রবণ পাঁচ জেলায় বন্যার তীব্র আভাস দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পাউবোর বিশেষ বুলেটিন ও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় এই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সবকটি প্রধান ও উপ-নদীর পানি সমতলের বর্তমান অবস্থা এবং আগামী কয়েক দিনের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য ও নদী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল সাময়িকভাবে কিছুটা হ্রাস পেলেও সামগ্রিক আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে বলা যায় যে, আগামী তিন দিন এই নদীগুলোর পানি সমতল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে। দেশের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার কারণে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। অপরদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত এক দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিন সুরমার পানিও আবার নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদ-নদীর পরিস্থিতি তুলে ধরে আরও জানানো হয় যে, গত এক দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত একটানা বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু কিছু পয়েন্টে তাদের নির্ধারিত সতর্কসীমা স্পর্শ বা অতিক্রম করে প্রবাহিত হতে পারে, যার ফলে নদী সংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, মুহরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি সমতল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তবে অববাহিকার এই নদীগুলোর পানি সমতল আগামী আরও এক দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে।

বর্তমানে দেশের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের নিচু এলাকার জন্য উদ্বেগের কারণ। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি ও বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র উল্লেখ করেছে যে, উত্তর-西北 বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে উত্তর ওড়িশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির উপচে পড়া চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জিহান সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পানি বৃদ্ধির এই ধারা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

 

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...