ভারতের লোকসভায় আজ এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার ইতিহাস। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, পাকিস্তানের লজ্জাজনক পরাজয়, তৎকালীন নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক ভূমিকা এবং ১৯৭১ সালের যৌথ বিজয়কে হাতিয়ার বানিয়ে ভারতের লোকসভায় দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে সরাসরি রাজনৈতিক তীর ছুড়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি হিসেবে তাঁর করা এই বিস্ফোরক ও কৌশলগত মন্তব্যটি শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেনি, বরং বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও এক নতুন গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—হঠাৎ কেন ভারতের অভ্যন্তরীণ সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শাণাতে গিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুদীর্ঘ ইতিহাস টেনে আনলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর এই ক্ষুরধার বক্তব্যের পেছনে কি কেবলই মোদি সরকারের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংকে ঘায়েল করার চেষ্টা রয়েছে, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও কোনো সুদূরপ্রসারী বড় বার্তা। এই নির্দিষ্ট বক্তব্য কি ১৯৭১ সালের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন কোনো অযাচিত বিতর্কের দিকে ঠেলে দেবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের একক কৃতিত্ব দাবি করার যে পুরোনো ভারতীয় রাজনৈতিক বয়ান, সেটিকেও কি আবার বড় ধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।
ভারতের লোকসভার চলমান অধিবেশনের সার্বিক পরিবেশ তখন অত্যন্ত উত্তপ্ত ও মুখর ছিল। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দেশের প্রধান বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন সরকার একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছিল এবং আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’। সংসদের ভেতরে উপস্থিত সবাই যখন ভাবছিলেন যে আজকের এই মূল বিতর্কটি কেবলই সাম্প্রতিক সেই সামরিক অভিযানের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যেই আবর্তিত থাকবে, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সময়ের চাকা ঘুরিয়ে উপস্থিত সবাইকে প্রায় ৫৫ বছর পেছনের এক ঐতিহাসিক অতীতে নিয়ে যান। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন যে, যেখানে সরকার কেবলই নিজেদের বর্তমানের কৃতিত্ব নিয়ে মেতে আছে, সেখানে তিনি ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত সত্য কথা বলতে চান। এরপর তিনি একে একে লোকসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এমন কয়েকটি স্পর্শকাতর শব্দ উচ্চারণ করলেন, যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোত ও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। শব্দগুলো হলো—বাংলাদেশ, ইন্দিরা গান্ধী, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং ১৯৭১ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে কেবল একটি সামরিক যুদ্ধেই জয়লাভ করেননি, বরং তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ভারতের ইতিহাসে এক বিরাট ও নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছিলেন। তৎকালীন পরাশক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রবল রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ এবং সপ্তম নৌবহর পাঠানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেও তিনি বাংলাদেশের মজলুম মানুষের মুক্তির পক্ষে বিশ্বব্যাপী দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের এক লাখেরও বেশি নিয়মিত সেনাকে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছিলেন। তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পুরো বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী লাইনটি আসে ঠিক এর পরপরই। তিনি লোকসভায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কখনোই নিজের নামে বা নিজের সরকারের নামে এককভাবে নিতে চাননি। এই একটি একক বাক্যের মধ্যেই আসলে প্রিয়াঙ্কার মূল রাজনৈতিক বার্তা ও মোদিবিরোধী সুদূরপ্রসারী কৌশল লুকিয়ে ছিল। কারণ তাঁর ঠিক পরের বাক্যেই তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। তাঁর মূল অভিযোগ হলো, বর্তমান বিজেপি সরকার তাদের পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পুরো কৃতিত্ব কেবলই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে প্রচার করছে এবং একটি কৃত্রিম ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ তৈরি করছে। এমনকি অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের সাধারণ ক্রীড়াবিদেরা কোনো পদক পেলেও সেই কৃতিত্ব বর্তমান সরকার ও তার প্রচারযন্ত্র নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এককভাবে কুক্ষিগত করতে চায়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভাষায়, কেবল সবকিছুর কৃতিত্ব নিজের নামে নিলেই প্রকৃত নেতৃত্ব প্রমাণিত হয় না, বরং যোগ্য নেতৃত্বের প্রধান শর্ত হলো সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার সমস্ত দায়ও নিজের কাঁধে নেওয়া। আর এই বক্তব্যের পরেই ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্লেষকদের মধ্যে আসল ঐতিহাসিক বিতর্কটি শুরু হয়েছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায় যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে হঠাৎ কেন বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক প্রসঙ্গটি এত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা সার্বভৌমত্ব আসলে মূল বিষয় ছিল না, বরং এটিকে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। প্রিয়াঙ্কা মূলত সংসদের ভেতরে ও বাইরে দেশের সাধারণ মানুষকে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভারতের অতীতের মহান নেতৃত্ব নিজেদের ব্যক্তিগত প্রচার বা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বড় সাফল্যকে কখনো ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেননি। অথচ বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশের প্রতিটি ছোট-বড় জাতীয় সাফল্যকে দলীয় ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ বানিয়ে ফেলছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও ঐতিহাসিক যৌথ বিজয়ের এক অনন্য নজির ব্যবহার করে তিনি নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক স্টাইল ও তাঁর প্রচারসর্বস্ব নেতৃত্বের ধরণকে সরাসরি নীতিগত প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই রাজনৈতিক বিতর্কের রেশ কেবল ভারতের সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কারণ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জন নিয়ে বহু বছর ধরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী বয়ান বা ন্যারেটিভ টিকে রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেস দাবি করে যে, ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিশ্বজনমত গঠনই ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি এই কূটনৈতিক কৃতিত্বকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে তুলনামূলকভাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব, ত্যাগ ও সামরিক সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
কিন্তু যদি আমরা এই পুরো দৃশ্যপটটিকে বাংলাদেশের নিজস্ব ও স্বাধীন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করি, তবে এর ভেতরের মূল ছবিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আরও বেশি বাস্তবসম্মত। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে স্বাধীনতার মূল ভিত্তি বা মূল স্তম্ভ হলো দীর্ঘ চব্বিশ বছরের রাজনৈতিক স্বাধিকার আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের মহান আত্মত্যাগ, লাখো বীর মুক্তিযোদ্ধার অসীম বীরত্ব এবং অসংখ্য নির্যাতিত মা-বোনের চরম সম্ভ্রমহানি। ১৯৭১ সালে ভারতের দেওয়া সামরিক আশ্রয় ও কূটনৈতিক সহায়তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি সহযোগী শক্তি মাত্র, কোনোভাবেই মূল বিকল্প বা একক শক্তি নয়। তাহলে কি ভারতের এই একক কৃতিত্বের বয়ান প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল। এখানেই সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক আলোচনাটি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের একটি বিশাল অংশ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলে আসছেন যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় কোনো একক শক্তির জয় ছিল না, বরং এটি ছিল একটি যৌথ বাস্তবতা। বাংলাদেশের বীর জনগণের অদম্য প্রতিরোধ, গেরিলা যুদ্ধ এবং সর্বাত্মক জাতীয় সহযোগিতা ছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে এখানে হস্তক্ষেপ করার বা বিজয় ছিনিয়ে আনার কোনো আইনি বা ভৌগোলিক সুযোগ তৈরি হতো না। আবার অন্যদিক থেকে, ভারতের দেওয়া সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা ছাড়া এই যুদ্ধ হয়তো আরও অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হতো এবং আরও বেশি রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করতে পারতো। অর্থাৎ, প্রকৃত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস কখনো কোনো নির্দিষ্ট দেশের একজন নেতা বা একটি একক সরকারকে এই বিজয়ের একমাত্র নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। তাই প্রিয়াঙ্কার এই সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে সেই অর্ধশতাব্দী পুরনো প্রশ্নটি বিশ্বমঞ্চে সামনে এনেছে যে, ইতিহাসের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব কি কোনো একজন সুনির্দিষ্ট নেতা, একটি সরকার কিংবা একটি রাষ্ট্র একাই নিজের দাবি করতে পারে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং খোদ ভারতেও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সরাসরি এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো বড় ধরণের কূটনৈতিক সংকট বা ফাটল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানে এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের একটি অংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সমসাময়িক ইতিহাস নিয়ে যে এক ধরণের প্রতিযোগিতামূলক বয়ান বা ন্যারেটিভ যুদ্ধ চলছে, সেখানে এই বক্তব্য অবশ্যই এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আবারও নতুন প্রজন্মের মাঝে এই আলোচনা শুরু হতে পারে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ঠিক কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং স্বাধীনতার এই বিশাল অর্জনে বহির্বিশ্বের কে কতটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার কার পকেটে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লোকসভার কয়েক মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ধারালো বক্তৃতা আবারও অর্ধশতাব্দী পুরনো এক গৌরবময় ইতিহাসকে বর্তমানের কুৎসিত রাজনীতির কেন্দ্রে টেনে আনল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মূল লক্ষ্য ছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ধরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, কিন্তু সেই বক্তব্যের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ইতিহাস পর্যন্ত। এখন বিশ্ববাসীর সামনে একটাই প্রশ্ন, ১৯৭১ সালের বিজয় কি কোনো এক নির্দিষ্ট নেতা বা রাষ্ট্রের একক কৃতিত্ব নাকি এটি ছিল লাখো মানুষের রক্তে লেখা একটি যৌথ ইতিহাস। এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ইতিহাস অনেক আগেই নিজের পাতায় স্পষ্ট করে লিখে রেখেছে, কিন্তু রাজনীতির নোংরা মঞ্চে সে উত্তর নিয়ে বিতর্ক যে এখনো শেষ হয়নি, লোকসভার এই বক্তৃতাই তার সর্বশেষ ও অকাট্য প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ২৪