শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

পুরুষের স্মার্টনেস : আশরাফ স্যারের ৮টি শিক্ষা

বাদল সৈয়দ / ৩ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ক) ধার করা কাবুলি সেট-
পিত রঙের কাবুলি সেট ইজ্জত বরবাদ করল! বিয়েটাও গোল্লায় যেতে পারত।
আমার স্ত্রী লিজার সাথে আমার দীর্ঘ পরিচয়ের বিয়ে নয়। বিয়ের আগে অল্প কয়েকবার দেখা হয়েছিল।
তখনো আমরা বন্ধুদের জামা-জুতো ধার করে পরতাম।
একদিন আমি বন্ধু সোহেলের পিত রঙের কাবুলি ড্রেস পরে হবু স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলাম। সোহেল হচ্ছে খুবই টকটকে ফর্সা, আমি হচ্ছি ঘন কালো। ওর স্বাস্থ্য আমার চেয়ে অনেক ভালো, লম্বাও খানিকটা বেশি। কিন্তু আমি তার বিশাল সাইজের কাবুলি ড্রেস আমাকে মানাবে কি না তা নিয়ে মাথা ঘামালাম না।
যাই হোক! লিজা সেদিন কিছু বলল না, শুধু আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।
ইজ্জতে টান পড়ল বিয়ের কয়েকদিন পর। সে হাসতে হাসতে বলল, ‘ওইদিন অদ্ভুত কাবুলি সেটটা কোথায় পেয়েছিলে? আমি নিশ্চিত ওটা তোমার নয়। কার থেকে ধার নিয়েছিলে?’
আমি ফস করে বলে ফেললাম, ‘সোহেল থেকে।’
সে মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসি থামানোর চেষ্টা করতে করতে বলল, ‘সোহেল ভাইয়ের? ওনার থেকে ধার করে পরেছিলে?’
আমি একটু ক্ষেপে গিয়ে বললাম, ‘তাতে সমস্যা কী?’
সে বলল, ‘সমস্যা নেই, শুধু একটু কার্টুন কার্টুন লাগছিল। এত্ত ঢোলা… …রঙটা অদ্ভুত…!’
আমি মুখ কালো করে ফেললাম।
সে বুঝতে পারল আমি মন খারাপ করেছি, তাই নরম গলায় বলল, ‘মন খারাপ করার কিছু নেই। তুমি মাত্র ছাত্রজীবন শেষ করলে। এরকম হতেই পারে। তবে এখন চাকরিতে ঢুকেছ। অনেকের সাথে মিশতে হবে। অনেক জায়গায় যেতে হবে। তাই নিজেকে আরো প্রেজেন্টেবল করা উচিত। তাছাড়া, এখন বউ আছে, সেটাও তো ভাবতে হবে।’
আমি কিছুটা ঝাঁঝ মিশিয়ে বললাম, ‘এই লেভেন্ডিসকে তাহলে বিয়ে করলে কেন?’
সে হাসতে হাসতে বলল, ‘এর উত্তর আমিও জানি না।’
খ) আশরাফ স্যারের শিক্ষা-
লিজার কথা শোনার পর আমি আমার স্মার্ট মানুষ খুঁজতে লাগলাম। যাকে দেখে শিখব।
ভাগ্যক্রমে তখন আমার কমিশনার হিসেবে বদলি হয়ে এলেন আশরাফ হাসান স্যার। আমার দেখা স্মার্ট পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রথমজন হচ্ছেন পিয়ার্স ব্রসনান।
আমি তাঁর কাছে শিখলাম-
১) মাসে একবার চুল কাটতে হবে। নিয়মিত নখ কাটতে হবে। প্রতিদিন গোসল ও শেভ করতে হবে। মুখে সামান্যতম দুর্গন্ধ থাকা যাবে না। স্কিনের যত্ন মাস্ট। নয়তো অকালে বুড়িয়ে যেতে হবে।
( যারা দাঁড়ি রাখেন তাঁদের নিয়মিত তা ট্রিম করতে হবে)
২) পোশাক দামি হতে হবে এমন নয়। কিন্তু পরিষ্কার ও পরিপাটি হবে। অফিসে নিউট্রাল কালারের পোশাক পরতে হবে, যেমন সাদা, আকাশী, নেভি ব্লু, ধুসর বা অফ হোয়াইট শার্ট। কালো, বাদামি, নেভি ব্লু প্যান্ট। তবে ছুটির দিনে বা বেড়াতে গেলে ক্যাজুয়াল পোশাক পরা যাবে। আবার অনুষ্ঠান ভেদে পোশাকও ভিন্ন হবে। বিয়েতে যা পরা যায়, কুলখানিতে তা পরা যায় না।
৩) শরীরে ফিট করে এমন পোশাক পরতে হবে। স্যুট পরলে তাও একদম ফিট হতে হবে। স্যার সবসময় নিখুঁত ফিটিংয়ের স্যুট পরতেন।
৪) হালকা পারফিউম ব্যবহার করা উচিত। আশরাফ স্যার একবার বলেছিলেন, ‘এমনভাবে পারফিউম দেবে যাতে কাছে এলে টের পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে বাতাসে ভেসে আসবে। কন্টিনিউয়াস ভুরভুর করে ঘ্রাণ ছড়াবে না।
৫) তাঁর জুতোয় চেহারা দেখা যেতো। তিনি বলতেন, ‘ইনভেস্ট ইন শু। জুতোর দিকে বেশির ভাগ মানুষ প্রথম তাকায়।’
৬) দাঁড়াতে হবে সোজা হয়ে, বসতেও হবে সোজা হয়ে। হাঁটতে হবে দৃঢ় পায়ে।
৭ ) কথা বলতে হয় চোখে চোখ রেখে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে। মিনমিন করে নয়। অতিরিক্ত বাচাল হওয়া যাবে না।
৮) তবে পুরুষের সেরা স্মার্টনেস লুকিয়ে আছে তার আচরণে। Kingsman: The Secret Service সিনেমায় একটি সংলাপ আছে। তা হলো, ‘Manners Maketh man- ভদ্রতাই পুরুষকে পুরুষ করে তোলে।
৩) আমার আব্বুর মতো নয়-
আশরাফ স্যার একবার আমার বাসায় এসেছিলেন। সেদিন তাঁকে দুর্দান্ত স্মার্ট লাগছিলো। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি লিজাকে বললাম, ‘ স্যার খুব স্মার্ট না?’
সে বলল, ‘ অবশ্যই, তবে আমার আব্বুর মতো নয়।’
আসলে মেয়েরা যেমন বাবাদের রাজকন্যা- ঠিক তেমন বাবারাও মেয়েদের রাজপুত্র।
#আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...