শিরোনামঃ
বঙ্গোপসাগরে দুই এশীয় পরাশক্তির করিডোর যুদ্ধ আর্জেন্টিনা হারতেই পরীমণির স্বস্তির পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন আয় ‘খোকা’ আয়: হেমন্তের গানটি যখন উল্টে যায় সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব কেন হয়? আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দির পলায়ন: জেলার শিরিন সাময়িক বরখাস্ত ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ মেজর মোজাফফরের বিচার হবে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের নতুন আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে কার্যত এক চরম অচল অবস্থার মধ্যে পড়ে রয়েছে। আঞ্চলিক এই স্থবিরতা ও ভারতের একঘেয়ে নীতিকে পাশ কাটিয়ে এবার সার্ককে নতুন করে সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চীনকে যুক্ত করা এবং ভারতকে একপাশে রাখার বিশেষ কূটনৈতিক রূপরেখা। সম্প্রতি দেশের একটি প্রভাবশালী শীর্ষ গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, দেশে নতুন রাজনৈতিক প্রশাসন তথা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেও এই কূটনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সংস্থাকে কার্যকর করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।

এমন এক জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির টেবিলে উঠে এসেছে ‘সার্ক প্লাস’ নামের এক নতুন ও সময়োপযোগী ধারণা। দীর্ঘদিন ধরে সার্কে পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পেয়ে আসা চীন এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারকে এই জোটের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার একটি বড় সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ঢাকার পক্ষ থেকে তোলা এই প্রস্তাবে ভারতের পক্ষ থেকে জোর আপত্তি আসাটা একেবারেই স্বাভাবিক ও অবধারিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সার্কে পরাশক্তি চীনের সরাসরি অন্তর্ভুক্তি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আঞ্চলিক স্থবিরতা কাটানোর পথ উন্মুক্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নিজেদের ভেতরের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এখনও অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে রয়ে গেছে। অথচ কেবল বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাগুলো কমিয়ে আনতে পারলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক লেনদেন বহু গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক বাস্তবতাও সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার জোরালো তাগিদ দিচ্ছে।

ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও দেখা দিয়েছে নতুন ধরণের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সুত্রকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে ভারত সফরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। শীর্ষ কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকের জন্য দুই দেশের মধ্যে যে নূন্যতম আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন, তা বর্তমানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং সীমান্তে নিত্যদিনের উত্তেজনা এই আস্থার সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ভূরাজনৈতিক অবস্থান দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও বেশি জটিল ও মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ঢাকার নীতি নির্ধারণী মহল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে আপাতত দিল্লি সফরের কোনো যুক্তিযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি কৌশলগত দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে।

নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি স্থগিত রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। নিউইয়র্ক সফরের পাশাপাশি জাপান ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ সৌদি আরব সফরের বিষয়েও কূটনৈতিক আলোচনা ও রোডম্যাপ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ভারতের ওপর একচেটিয়া নির্ভরতা কমানো বা দিল্লিকে মাইনাস করার এই সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ফর্মুলা এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির কোনো সাধারণ রুটিন পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক দরবারে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নতুন ও স্বাধীন কূটনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে, তবে তা কোনো একটি নির্দিষ্ট একক দেশের ইচ্ছে বা আধিপত্যের ওপর নির্ভর করে হবে না। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে থমকে থাকা সার্ক কি এবার এই নতুন কৌশলে আবার প্রাণ ফিরে পাবে, আর দক্ষিণ এশিয়ার এই নতুন মেরুকরণের নেতৃত্ব কি ঢাকা দেবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সূত্র: দ্যা নিউজ আওয়ার


এ জাতীয় আরো খবর...