ফুটবলে অনেক সময় কিছু কাকতালীয় ঘটনা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের গল্পেও এমনই এক অদ্ভুত মিল সামনে এসেছে। বয়স ১৯ বছর, জাতীয় দলের জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বকাপ জয়ের দিনও ১৯ জুলাই। তিনটি ‘১৯’ যেন এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনকে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র ছয় দিন আগে, ১৩ জুলাই ১৯তম জন্মদিন উদযাপন করেন ইয়ামাল। জন্মদিনে তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ছিল স্পেন যেন অন্তত ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে থাকে। সেই ইচ্ছা শুধু পূরণই হয়নি, ওই দিনই বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নেয়।
নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন ইয়ামাল। ডান প্রান্তে তার গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতি পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রেখেছিল।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ইয়ামালের বাঁকানো ফ্রি-কিকও অসাধারণ এক সেভে ফিরিয়ে দেন মার্তিনেস। ফাইনালে গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও স্পেনের আক্রমণভাগে সবচেয়ে সক্রিয় খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার।
ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে সম্প্রতি ১০ নম্বর জার্সি পেলেও জাতীয় দলে নিজের পরিচিত ১৯ নম্বর জার্সিই ধরে রেখেছেন ইয়ামাল। এই জার্সি গায়েই ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। দুই বছর পর একই নম্বরের জার্সিতে এবার বিশ্বকাপও জিতে নিজের সাফল্যের মুকুটে যোগ করলেন সবচেয়ে মূল্যবান ট্রফিটি।
বিশ্বকাপের এবারের আসরেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ইয়ামাল। গোল করে তিনি ১৯৫৮ সালে পেলের পর বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। সেই কীর্তির পর এবার মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করলেন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল এই তারকা।
বয়স ১৯, জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বজয়ের দিন ১৯ জুলাই সংখ্যার এই বিরল মিল লামিন ইয়ামালের বিশ্বকাপ জয়ের গল্পকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি হয়তো নিছক কাকতালীয়, কিন্তু ইয়ামালের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের সঙ্গে ‘১৯’ সংখ্যাটি চিরদিনের মতো জড়িয়ে থাকল।