শিরোনামঃ
অ্যাঞ্জেল মেরি কামস টু মি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা তাহসিনের সাক্ষাৎ শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত ‘চোখ-কান খুলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি’— ইসিকে জামায়াত বৈদেশিক লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক শাপলা চত্বর মামলায় গ্রেপ্তার না হলে আত্মসমর্পণ করবো: লতিফ সিদ্দিকী ‘নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়’ হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে কী আছে তুর্কি ড্রোনে শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ, নতুন মোড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভেজাল উৎপাদন : মানহীন আট পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

দেশের সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পণ্যের কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখতে বাজার থেকে চার নামীদামি প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মাননিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। গবেষণাগারে এসব পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি কোনো কোনোটিতে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি রয়েছে। বিএসটিআই নির্দেশ দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের এসব মানহীন পণ্যের নির্দিষ্ট ব্যাচগুলো বাজার থেকে সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে।

বিএসটিআইয়ের মানহীন পণ্যের সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি বেলোসিমো ব্র্যান্ডের রোতেন্দো হ্যাজেলনাট চকলেট আইসক্রিম। বিএসটিআইয়ের এই কড়া বিজ্ঞপ্তির পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই তারা বাজার থেকে নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্যগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উপাদানগুলোতে ক্ষতিকর কিছু না থাকলেও বিএসটিআই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের বাইরে মান থাকায় বাজার থেকে পণ্যগুলো ফেরত নেওয়া হচ্ছে। তবে একই তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রসাধন ও খাদ্যসামগ্রীতে নিরাপদ সীমার অতিরিক্ত রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা সরাসরি স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সের তৈরি আমের আচারে বিপজ্জনক মাত্রায় অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন খেলে শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। একইভাবে অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে মানুষের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে ডেকো ফুডসের প্রস্তুতকৃত বহুল ব্যবহৃত ম্যাংগো এবং অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডারে কোম্পানিটি মোড়কে যে পরিমাণ ভিটামিন সি থাকার কথা বলেছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া গেছে। খাদ্য উপাদানে পুষ্টি কম থাকা বা প্রসাধনীতে বিষাক্ত অনুজীব থাকা উভয়ই ভোক্তা ঠকানোর শামিল।

বাজার থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য প্রত্যাহারের এই সরকারি পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে, বাজারজুড়ে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের দাপটে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। যখন কোনো খাদ্য বা প্রসাধন সামগ্রী কিনে নেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয় যে এটি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। কিন্তু সেখানে যদি অতিরিক্ত কেমিক্যাল বা বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। সাধারণ ক্রেতারা বিএসটিআইকে কেবল কদাচিৎ অভিযান না চালিয়ে প্রতিটি পণ্যের প্রস্তুতকালে স্থায়ীভাবে মান তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে, মানহীন খাবার ও প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকিতে পড়ছেন। কোনো খাবারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ থাকলে তা লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে, আর জীবাণুমুক্ত না হওয়া প্রসাধনী ত্বকে ক্যাটারাক্টসহ নানা চর্মরোগ তৈরি করে। আবার মোড়কে লেখা পুষ্টি উপাদানের চেয়ে বাস্তবে কম পুষ্টি উপাদান দেওয়াটাও এক ধরনের নীরব প্রতারণা। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি পণ্যের ল্যাব টেস্ট নিয়মিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে যে, বাজারে অনিয়ম রোধে বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা ও পরিধি আরও বাড়ানো জরুরি। অনেক অসাধু কোম্পানি খরচ বাঁচাতে গিয়ে সাবস্ট্যান্ডার্ড বা নিম্নমানের পণ্য তৈরি করে বাজারে কম দামে ছড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্যও বিপজ্জনক। সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতার সুযোগে অনেক বড় বড় কোম্পানি প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায় বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা দূর করতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...