যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। একাধিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এ অভিযান বাস্তবায়ন হলে এটি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে অন্যতম বড় হামলা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে ওয়াল স্ট্রিটে সোমবার লেনদেন শুরুর আগেই অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে হামলার চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি।
সিবিএস নিউজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সমন্বয় চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরাইলকে সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল যদি এই অভিযানে অংশ নেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির পর এটিই হবে তাদের প্রথম বড় সামরিক অভিযান। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের একটি অংশ এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনা থাকতে পারে।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্ত্রিসভার বৈঠকেও স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করবে এবং তার দায়িত্বে থাকাকালে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না।”
তবে সম্ভাব্য এ সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হামলার ঘোষণা দেয়া হয়নি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ