চুলে বয়সের ছাপ পড়তে বয়স চল্লিশ পেরোনোর অপেক্ষা নেই। অনেকেরই কম বয়সে চুলে পাক ধরতে শুরু করে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের নানা অনিয়ম কিংবা অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার ডাই ব্যবহারের কারণে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্যেও প্রভাব পড়তে পারে।
পাকা চুল ঢাকতে বাজারের রাসায়নিকযুক্ত রঙের পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু উপকরণ দিয়েও চুলের যত্ন নেওয়া যায়।
রান্নাঘরে থাকা কারিপাতা, চা, কফি, আমলকি, শিকাকাই, পেঁয়াজ কিংবা লেবু দিয়েই তৈরি করা যায় কয়েক ধরনের হেয়ার প্যাক।
তবে এসব উপকরণে পাকা চুল স্থায়ীভাবে কালো হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বরং এগুলো চুলে সাময়িক রঙের আবরণ দিতে বা চুলের যত্নে সহায়ক হতে পারে।
কারিপাতা ও নারকেল তেলের যত্ন
চুলে অকালপক্বতা দেখা দিলে কারিপাতা দিয়ে তৈরি তেল ব্যবহার করতে পারেন।
এ জন্য নারকেল তেলে কারিপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর তেলটি ছেঁকে ঠান্ডা করে মাথার ত্বক ও চুলে ভালোভাবে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চা-কফির হেয়ার প্যাক
চা ও কফি চুলে সাময়িক কালচে-বাদামি আভা আনতে সাহায্য করতে পারে। এ প্যাক তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে ২ চামচ চা পাতা, ২ চামচ কফি পাউডার এবং এক কাপ পানি।
প্রথমে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কফি পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। পানি প্রায় অর্ধেক হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর ছেঁকে নেওয়া মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।
আমলকি-শিকাকাই প্যাক
চুলের যত্নে আমলকি ও শিকাকাইয়ের ব্যবহার বেশ পরিচিত। এই প্যাক তৈরিতে লাগবে ২ চামচ শুকনো আমলকির গুঁড়ো, ২ চামচ শিকাকাইয়ের গুঁড়ো এবং প্রয়োজনমতো টক দই।
সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি লোহার পাত্রে রেখে সারা রাত রেখে দিতে হবে। পরদিন চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
পেঁয়াজ ও লেবুর প্যাক
চুলের যত্নে ব্যবহার করা যেতে পারে পেঁয়াজ ও লেবুর মিশ্রণও। এজন্য একটি বড় পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
পেঁয়াজ কুচিয়ে ভালোভাবে চিপে রস বের করে নিন। এরপর তাতে লেবুর রস মিশিয়ে তুলার সাহায্যে চুলের গোড়ায় লাগান। প্রায় ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
লেবু বা অন্য কোনো উপকরণ মাথার ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। আর পাকা চুলের প্রকৃত কারণ জানতে সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।