জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় গুলিতে নিহত আব্দুর রহমান জিসান হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রসিকিউশন শাখা থেকে এ তখ্য জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন রেখেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন এ তথ্য জানান।
অভিযোগপত্রে অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
অভিযুক্ত আসামির তালিকায় আরও আছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ খান মুন্না, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মেহেদী হাসান সুমন, শান্ত নূর খান, রবিউল ইসলাম হেলালী, সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম খান দিলু, আবুল কালাম অনু, সাবেক কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, যুবলীগ নেতা ফয়সাল খন্দকার ও জাহাঙ্গীর আলম।
তবে এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ‘প্রমাণ না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাতুয়াইলের ২ নম্বর তিতাস গ্যাস রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করাতে বাসা থেকে বের হন জিসান। ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের পানি পান করানোর সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা একটি কাটা রাইফেল থেকে ছোড়া গুলি জিসানের ডান চোখের ওপর, ভ্রুর সামান্য নিচ দিয়ে ঢুকে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জিসানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামের উত্তর-পশ্চিমগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে বাধা দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম হেলালী মরদেহ দাফনে বাধা দেন এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। ফলে জিসানের মা বাধ্য হয়ে মাতুয়াইল কবরস্থানে তাকে দাফন করেন।