সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় রাখতে বিমান টিকেটের দুর্বৃত্তায়ন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের উত্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কথা জানান।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে বিমান ভাড়া সাধারণত ডাইনামিক প্রাইসিং পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়, যা এয়ারলাইন্সের রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
বিমান ভাড়া নির্ধারণে রুট, গন্তব্য, দূরত্ব, বুকিংয়ের সময়, যাত্রার তারিখ, আসন প্রাপ্যতা, এয়ারলাইন্সের ধরণ (বাজেট বা লিগ্যাসি), আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন ফুয়েলের মূল্য, বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট চার্জ, সরকারি কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য ফি টিকিটের মূল্য ও আসন শ্রেণিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। ফলে একই রুটে সময়, চাহিদা ও আসন প্রাপ্যতার ভিন্নতার কারণে বিমান ভাড়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হতে পারে।
তাই যেকোনো এক বা একাধিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে ভাড়ার তুলনা যুক্তিসঙ্গত নয়।
মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে বিমান টিকেটের দুর্বৃত্তায়ন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে।
যাত্রীস্বার্থ রক্ষা এবং টিকেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০ দফা সম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসারে আকাশপথের যাত্রী সাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণে সকল ট্রাভেল এজেন্সিকে এয়ার টিকিটের গায়ে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে লেখার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকেটে বিশেষ প্রণোদনা এবং বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা প্রদান, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং প্রায়োরিটি চেক-ইন এর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...