অন্যান্য অঙ্গনের মতো চলচ্চিত্রেও বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব । এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হয়ে যাচ্ছে পুরো সিনেমা । এআইয়ের প্রভাবে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা জল্পনা – কল্পনা , তখন মানুষের সৃষ্টিশীলতায়ই আস্থা রাখছেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ । তিনি মনে করেন , মানুষ সব সময় রিয়েল এবং রিয়েলিটি দেখতে চায় । সিনেমায় এআই আসবে , তবে মানুষের কোনো বিকল্প নেই । গত সোমবার রাতে লন্ডনে বাফটা আয়োজিত ‘ লাইফ ইন পিকচার্স ‘ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত হয়ে এইআইয়ের প্রভাব নিয়ে নিজের ভাবনা শেয়ার করেন টম ক্রুজ । অনুষ্ঠানে চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতিচারণার পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তাঁর নতুন সিনেমা ‘ ডিগার ’ নিয়েও কথা বলেন টম । টম ক্রুজের ‘ মিশন : ইম্পসিবল ‘ সিরিজের সিনেমাগুলো বরাবরই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে থেকেছে । এমনকি ২০২৫ সালের ‘ দ্য ফাইনাল
রেকনিং ‘ সিনেমায় এআইকে ভিলেন হিসেবে দেখানো হয়েছিল , সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টম ক্রুজের কাছে জানতে চাওয়া হয় , প্রযুক্তি ও এআই চলচ্চিত্রশিল্পে কেমন প্রভাব ফেলবে ? টম ক্রুজ বলেন , ‘ মানুষের বিকল্প কখনোই অন্য কিছু হতে পারে না । সিনেমা মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে । মানুষ সব সময় বাস্তব জিনিস দেখতে চায় । তবে এআই আসবে এবং এটি থামানো যাবে না । ’ ব্যবসায়িক দিক থেকে এ বছর হলিউডের জন্য দারুণ সফল একটি বছর । বক্স অফিসের রেকর্ড আয়ের উদাহরণ টেনে টম ক্রুজ বলেন , “ মানবীয় গল্প ও দক্ষ কারুশিল্পের প্রতি মানুষের তীব্র চাহিদা আগেও ছিল , এখনো আছে , ভবিষ্যতেও থাকবে । তাই যত প্রযুক্তিই আসুক , সৃষ্টিশীল মানুষদের কাজ থামানো যাবে না ; তাঁদের কাজ করে যেতে হবে । ‘ অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমা ডিগার নিয়েও কথা বলেন টম ক্রুজ । অস্কারজয়ী মেক্সিকান পরিচালক আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে টম অভিনয় করেছেন একজন ধনী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে । প্রস্থেটিক মেকআপ দিয়ে এ সিনেমায় যেভাবে বদলে ফেলা হয়েছে টম ক্রুজের লুক , তাতে তাঁকে চেনা কঠিন । টম ক্রুজ জানান , চরিত্রটির রূপ দিতে প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিশেষ প্রস্থেটিক মেকআপ ও ফ্যাট বডি স্যুট নিতে হতো তাঁকে । আগামী ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ডিগার ।