শিরোনামঃ
অল্প বয়সেই কোমর ও পিঠের যন্ত্রণা ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন ইনু অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপ-নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা রোধে সচেতন থাকার আহ্বান ইসি সানাউল্লাহর দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: রিজভী প্রশ্ন ফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র দাখিলের সময় বাড়ল সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৩ হাজার মানুষের বাস: ঢাকায় প্রতিদিন আসছে ১৭০০ নতুন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

গ্রামের অভাব-অনটন আর সীমাহীন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে নিজের ভাগ্য বদলানোর আশায় এক কাপড়ে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন বসিলার বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ। শুরুতে সদরঘাটে নৌকার হেলপার হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে তার যে সংগ্রামী জীবনের সূচনা হয়েছিল, আজ কয়েক দশকের কঠোর পরিশ্রমে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই ইট-পাথরের শহরেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের একটি ছোট সংসার। অন্যদিকে, শুধু যে অভাবের তাড়নায় মানুষ ঢাকায় আসছেন তা নয়, বরং উচ্চশিক্ষার রঙিন স্বপ্ন চোখে মেখে ২০০৬ সালে পাবনার এক নিভৃত পল্লী থেকে এই মহানগরে এসেছিলেন মেধাবী তরুণ মহিদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি এখন একটি সম্মানজনক চাকরিতে কর্মরত আছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে থিতু হয়েছেন এই যানজট আর ধুলোয় ভরা রাজধানীতেই। হুমায়ুন কিংবা মহিদুলের এই জীবনগল্প আসলে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের কোটি মানুষের এক নীরব প্রতিচ্ছবি। উন্নত কর্মসংস্থানের হাতছানি, আধুনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রত্যাশা, সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ কিংবা নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে ছুটছেন ঢাকার পানে।

কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, এই বিপুল জনস্রোত ধারণ করার মতো তিল ধারণের ঠাঁই কি ঢাকার আছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই জনবহুল মেগাসিটির এক ভয়াবহ ঘনত্বের চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট আয়তন মাত্র ৩০৫ দশমিক ৪৬ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়তন ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আয়তন ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বা বিবিএসের ২০২২ সালের জনশুমারির চূড়ান্ত উপাত্ত অনুযায়ী, এই ক্ষুদ্র আয়তনের মূল ঢাকা সিটির প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করছেন প্রায় ৩৩ হাজার ৭৫৭ জন মানুষ, যা বিশ্বের যেকোনো বাসযোগ্য শহরের তুলনায় রীতিমতো অকল্পনীয়। বিবিএসের ওই শুমারি মতেই দুই সিটির মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৬ জন। এর মধ্যে উত্তরে বাস করেন ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৭২৩ জন এবং দক্ষিণে ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩ জন। কিন্তু বাস্তবে ঢাকা ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক, ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বা ডিটিসিএ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার গভীর পরিসংখ্যানে ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হয়েছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএ-এর ২০১৬ সালের এক চাঞ্চল্যকর হিসাব মতে, বৃহত্তর ঢাকা অর্থাৎ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং এর লাগোয়া আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিদিন নতুন করে গড়ে এক হাজার ৭০০ জন মানুষ স্থায়ীভাবে যুক্ত হচ্ছেন।

ইতিহাসের পাতা উলটালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই ঢাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র আড়াই লাখ। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশের লগ্নে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ছয় লাখের কাছাকাছি। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই মূলত গ্রামবাংলার প্রান্তিক মানুষ একটু উন্নত জীবনের আশায় ঢাকায় আসতে শুরু করেন। এদের মধ্যে কারও হয়তো গ্রামে মাথা গোঁজার নিজস্ব একখণ্ড জমিও নেই, কারও আবার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে কোনো কর্মসংস্থান নেই, তাই তারা অনন্যোপায় হয়ে শহরের পথ ধরেন। বর্তমানে স্থায়ী আবাসিক বাসিন্দাদের বাইরেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেবল কাজ, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, প্রশাসনিক দাপ্তরিক কাজ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। দিনের বেলায় এই বিপুল পরিমাণ ভাসমান মানুষের চাপে নগরের সার্বিক সেবাব্যবস্থা রীতিমতো হাঁসফাঁস ও শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পতিত হয়। প্রতিনিয়ত জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা এই বিশাল জনসংখ্যার ভারে আক্ষরিক অর্থেই নুয়ে পড়েছে চারশ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক নগরী। জনসংখ্যার এই তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারছে না শহরের বিদ্যমান ভৌত অবকাঠামো। ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট, যত্রতত্র গড়ে ওঠা ঘিঞ্জি বস্তি, ভাঙাচোরা ও অপ্রশস্ত সড়ক, চরম বিশৃঙ্খল গণপরিবহণ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির তীব্র অভাব এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সেবার ওপর তৈরি হয়েছে এক সীমাহীন ও অমানবিক চাপ। অপরিকল্পিত ও খণ্ডিত উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং নগর ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা এই সংকটকে দিন দিন এক ভয়াবহ রূপ দিচ্ছে। তবুও দেশজুড়ে সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণের অভাবে কেবল জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঢাকামুখী মানুষের এই বাঁধভাঙা ঢল কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

মানুষ কেন সব কষ্ট ও দুর্ভোগ জেনেও রাজধানীমুখী হচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান ও অকাট্য কারণ হলো জীবিকার নিশ্চয়তা। বৃহত্তর ঢাকা এবং এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে প্রায় চল্লিশ লাখের বেশি পোশাকশ্রমিক তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। এর বাইরেও শুধু ঢাকা শহরেই সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র, শপিংমল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি, যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের নগরায়ণবিষয়ক এক গভীর মূল্যায়নেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, দেশের মাঝারি বা ছোট শহরগুলোতে মানুষের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত ভালো আয়ের কাজ এবং উন্নত নাগরিক সেবার চরম ঘাটতি রয়েছে। গ্রামের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে এখন যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় কায়িক শ্রমের সুযোগ অনেক কমে গেছে। সেই সঙ্গে নদীভাঙন, বন্যা বা সাইক্লোনের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সর্বস্বান্ত হওয়া ভূমিহীন মানুষের কাছে ঢাকা হয়ে উঠছে বেঁচে থাকার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। কৃষি খাতের বাইরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে শিল্পায়ন বা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে তবেই রাজধানীতে আসার এই তীব্র প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সন্তানদের আধুনিক শিক্ষা এবং পরিবারের সদস্যদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার কথা বিবেচনা করেও অসংখ্য মানুষ বাধ্য হয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দেশের যেকোনো প্রান্তে কেউ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে বিশেষায়িত চিকিৎসা বা বড় অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীর সঙ্গে পুরো পরিবারকেই ছুটে আসতে হয় এই রাজধানীতে। কারণ, জেলা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে উন্নত যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং আস্থার চরম অভাব রয়েছে। ফলে সরকারের কোনো একটি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কেবল ঢাকার বাইরে অন্য শহরে সরিয়ে নিলেই যে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় সেখানে চলে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সবার আগে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে মানুষের মনে গভীর আস্থা তৈরি করতে হবে। নগর বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন সময়ের গবেষণায় তাই কেবল কর্মসংস্থানের বিকেন্দ্রীকরণই নয়, বরং এর পাশাপাশি বিশ্বমানের নাগরিক সেবা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার সুস্পষ্ট পরামর্শ উঠে এসেছে।

ঢাকার এই অসহনীয় পরিস্থিতি নিয়ে বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম অত্যন্ত যৌক্তিক ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র আয়তনের দেশে জনসংখ্যা বিশাল। মাত্র এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার বর্গমাইল আয়তনের এই ভূখণ্ডে বসবাস করছেন প্রায় আঠারো কোটি মানুষ, যার অর্থ হলো দেশের প্রতি বর্গমাইলে গড়ে এক হাজার ২২৪ জন মানুষ বাস করেন। এই বিপুল জনসংখ্যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়বে বই কমবে না। কিন্তু এই বিশাল জনসম্পদকে সারা দেশে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের বড়ই অভাব রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের অধিকাংশ শিল্প-কলকারখানা, শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বড় বড় হাসপাতাল এবং প্রশাসনিক দপ্তরগুলো সবই ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে তোলা হয়েছে। এই একমুখী উন্নয়ন নীতি অবিলম্বে থামাতে হবে। দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগগুলোকে কেবল ঢাকা বা চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, তাহলেই কেবল ঢাকামুখী এই বিপুল জনসংখ্যার চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, গ্রামের মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এজন্য তারা আর কোনো উপায় বা বিকল্প পথ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঢাকায় চলে আসেন। দেশে আরও অনেক ছোট-বড় শহর থাকলেও সেসব শহরের অর্থনৈতিক কাঠামোর চেয়ে ঢাকায় আয়-রোজগারের পথ অনেক বেশি প্রশস্ত, এমনকি একজন ছিন্নমূল মানুষ ঢাকায় এসে ভিক্ষা করলেও জীবন চালিয়ে নিতে পারেন।

এই সংকট উত্তরণে সরকারি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে, ঢাকাকে পুনরায় বাসযোগ্য করে তোলা এবং ঢাকামুখী মানুষের এই বাঁধভাঙা চাপ কমাতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা-ভাবনা করছে। ঢাকার বিদ্যমান এই বহুমুখী সংকটের কার্যকর সমাধান করতে নগর সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত এবং যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পুরো দেশের সব এলাকার জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় দশ বছর মেয়াদি একটি রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে দেশের মেট্রোপলিটন বা বড় শহরগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করা হচ্ছে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে বড় শহর থেকে শুরু করে একেবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই মাস্টারপ্ল্যান সম্প্রসারিত করা হবে। কোথায় কী ধরনের উন্নয়ন হবে, তা নির্ধারণে জোনিং ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বা রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম ঢাকার প্রশাসনিক জটিলতার দিকটি তুলে ধরে বলেন, এই মেগাসিটির জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, আবাসন, পরিবহণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পয়োনিষ্কাশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো একক কোনো কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। ফলে এসব সংস্থার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া ঢাকার এই পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন, প্রতিদিন মানুষের আগমন ও নতুন বস্তি গড়ে ওঠা শুধু আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, বরং দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পনা করতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মডেল অন্ধভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে পরিকল্পনা চাপিয়ে দিলে তা কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। রাজউকের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য হলো, শহরের মানুষের জন্য ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী একটি মানবিক শহরে রূপান্তরিত করা এবং সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থা।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...