শিরোনামঃ
অল্প বয়সেই কোমর ও পিঠের যন্ত্রণা ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন ইনু অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপ-নির্বাচনে সন্ত্রাস ও অপতৎপরতা রোধে সচেতন থাকার আহ্বান ইসি সানাউল্লাহর দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: রিজভী প্রশ্ন ফাঁসে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র দাখিলের সময় বাড়ল সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

জলাশয় ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ: নন্দনগাছীতে রেলের ৩০ একর জমি দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অন্তর্গত নন্দনগাছী রেলস্টেশনটি দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত আগস্ট মাসে পুনরায় চালু করা হয়েছে| স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণের ফলে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় যে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তা এখন পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেছে অবৈধ দখলের এক চরম মহোৎসবে| স্টেশনটি পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকেই রেলওয়ের বিশাল সম্পত্তির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী, সুবিধাবাদী ও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট চক্রের| গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, স্টেশন সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩০ একর মূল্যবান সরকারি জমি এখন পুরোপুরি এসব ভূমিদস্যু ও দখলদারদের লৌহকঠিন কব্জায় চলে গেছে| সেখানে রাতের আঁধারে এবং দিনের আলোতে প্রকাশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় চারশোর বেশি ছোট-বড় দোকান, বহুতল মার্কেট ও নানা ধরনের অননুমোদিত বাণিজ্যিক স্থাপনা| সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সুবিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের সিংহভাগেরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া কোনো বৈধ অনুমোদন বা আইনি ছাড়পত্র নেই| রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে এই বিশাল সরকারি সম্পত্তি এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের জন্য সোনার ডিমে তা দেওয়া এক বিশাল হাঁসে পরিণত হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে|

সরকারি সম্পত্তি জবরদখলের এই নজিরবিহীন মহোৎসবে সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বেপরোয়া নামটি হলো রফিকুল ইসলাম| স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত রফিকুল ক্ষমতার চরম দাপট দেখিয়ে এক অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন| তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি বিশাল জলাশয় ইজারা বা লিজ নিয়েছিলেন মূলত মাছ চাষ করার সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে| কিন্তু মাছ চাষের সেই আইনি শর্তকে সম্পূর্ণভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি রাতের অন্ধকারে ড্রেজার ও শত শত ট্রাক্টর লাগিয়ে মাটি ফেলে ওই বিশাল জলাশয়ের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ভরাট করে ফেলেছেন| জলাশয়টি ভরাট করার পর সেখানে রেলওয়ের কোনো প্রকার বাণিজ্যিক অনুমোদন বা নকশা পাস না করিয়েই অবলীলায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক কংক্রিটের মার্কেট| শুধু মার্কেট নির্মাণ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, ইতিমধ্যে দশটি দোকান মোটা অঙ্কের নগদ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অসহায় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন| এমনকি ভরাট করা জলাশয়ের বাকি জমিও তিনি প্লট আকারে ভাগ করে সাধারণ মানুষের কাছে চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা অত্যন্ত জোরালো অভিযোগ তুলেছেন| এই অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও দোকান বিক্রির মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে|

রফিকুল ইসলামের এই বেপরোয়া আচরণের পেছনে মূলত কাজ করছে তার পারিবারিক রাজনৈতিক আধিপত্য ও পেশিশক্তি| তার বাবা মোজাহার মণ্ডল একসময় স্থানীয় নিমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সভাপতি হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন| রফিকুল ইসলাম নিজেও তার পরিবারের এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা অকপটে স্বীকার করেন, যদিও বর্তমানে দলের খাতায় তার নির্দিষ্ট কোনো পদ বা পদবি নেই| তবে দলের নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতি খাটিয়ে তিনি পুরো এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন| স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম অত্যন্ত আক্ষেপ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, মাছ চাষের লিজ নিয়ে রফিকুল যখন একের পর এক মাটির ট্রাক এনে জলাশয়টি ভরাট করছিলেন, তখন সাধারণ মানুষ এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিল| কিন্তু রফিকুল তার রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দেখিয়ে প্রতিবাদী সাধারণ মানুষদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেন| ভয়ে সাধারণ মানুষ এখন আর তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না, কারণ একটু বাধা দিলেই তাদের ওপর নেমে আসে নানা ধরনের হুমকি, শারীরিক লাঞ্ছনা ও চরম হয়রানি|

রফিকুল ইসলামের এই হঠকারী, স্বার্থান্বেষী ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো নন্দনগাছী বাজার ও রেলস্টেশন এলাকা এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে| স্থানীয় প্রবীণ ও ব্যবসায়ীদের মতে, ওই বিশাল জলাশয়টি ছিল এই এলাকার বৃষ্টির পানি ও সার্বিক পয়োনিষ্কাশনের একমাত্র প্রধান মাধ্যম| কিন্তু সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলার কারণে প্রাকৃতিকভাবে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে গেছে| এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই রেলস্টেশন ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ বাজার এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে| সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, বর্ষাকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পরও পানি নামার কোনো পথ বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গোটা এলাকাটি মাসের পর মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকছে| এই কৃত্রিম ও মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দা, স্টেশনে আসা ট্রেনযাত্রী এবং বাজারের শত শত ব্যবসায়ীর মধ্যে চরম ক্ষোভ, উত্তেজনা ও হতাশা বিরাজ করছে| নিমতলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরে বলেন যে, প্রতি বছর বর্ষার সময় স্টেশন সংলগ্ন এলাকাটি পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়ে মানুষের অবর্ণনীয় ও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করে| এলাকার মানুষের এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে গত বছর সরকারিভাবে কয়েক লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করে ওই জলাশয়টি পুনরায় সংস্কার ও গভীর খনন করা হয়েছিল| কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রফিকুল ইসলাম মাছ চাষের মিথ্যে নাম করে সেই সরকারি টাকায় সংস্কারকৃত জলাশয়টিই রাতের আঁধারে মাটি ফেলে ভরাট করে বিশাল মার্কেট বানাচ্ছেন| ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্ষেপ করে জানান, পুরো বিষয়টি একাধিকবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তারা রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে|

সরকারি জমি লুটের এই মহাযজ্ঞে কেবল রফিকুল ইসলাম একাই জড়িত নন, স্টেশনের উত্তর পাশে আরও বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি রেলের জমি জবরদখল করে রীতিমতো নিজেদের স্বাধীন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন| এদের মধ্যে সানাউল্লাহ, মিজানুর রহমান এবং মুকুল ইসলামের নাম এলাকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও পরিচিত| তারা প্রকাশ্যে দিবালোকে রেলওয়ের জমি দখল করে সেখানে একের পর এক দোকান ও বিশাল শপিং মার্কেট নির্মাণ করে চলেছেন, যেন দেখার কেউ নেই| দখলদার মিজানুর রহমানের দম্ভোক্তি শুনলে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস উঠে যেতে বাধ্য| তিনি গণমাধ্যমকে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে ও বুক ফুলিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি এখনো মার্কেট নির্মাণের জন্য রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো প্রকার লিখিত অনুমতি নেননি, তবে মার্কেট নির্মাণের পুরো কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি অনুমতির জন্য আবেদন করবেন বলে মনস্থির করেছেন| অর্থাৎ আগে অবৈধ দখল ও নির্মাণ, তারপর অনুমোদনের নাটক| অন্যদিকে আরেক প্রভাবশালী দখলদার সানাউল্লাহর যুক্তি আরও অদ্ভুত ও হাস্যকর| তিনি জানান যে, তিনি রেলের কাছ থেকে জায়গাটি মূলত ধানি জমি বা কৃষিকাজের জন্য ইজারা হিসেবে নিয়েছিলেন| কিন্তু সেখানে আশানুরূপ ধানের ফলন না হওয়ায় তিনি নিজের ইচ্ছেমতো সেখানে ইট-সিমেন্টের দোকানঘর নির্মাণ করে এখন চড়া মাসিক ভাড়ায় তা অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিচ্ছেন, যা ইজারা চুক্তির সম্পূর্ণ ও সরাসরি লঙ্ঘন|

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, নন্দনগাছী স্টেশনের আশপাশে রেলের বিশাল সম্পত্তির ওপর বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৮৬টি দোকান ও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে| সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক পরিসংখ্যান হলো, এই বিপুল সংখ্যক স্থাপনার মধ্যে মাত্র ৩৭টির রেলওয়ের খাতায় বৈধ অনুমোদন রয়েছে| বাকি ৩৪৯টি স্থাপনাই সম্পূর্ণ গায়ের জোরে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে| এই অবৈধ দোকানগুলোর প্রতিটি থেকে প্রতি মাসে গড়ে দেড় হাজার থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট চক্রটি| সাধারণ ব্যবসায়ীরা পেটের দায়ে নিরুপায় হয়ে এই চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন এবং নিঃস্ব হচ্ছেন| ইদ্রিস আলী নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে জানান যে, তিনি একটি দোকানের জায়গা পাওয়ার জন্য রফিকুল ইসলামকে ইতিমধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা অগ্রিম বা অ্যাডভান্স হিসেবে প্রদান করেছেন| তার মতো ওই এলাকার আরও অসংখ্য অসহায় ও বেকার মানুষ ব্যবসার তাগিদে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে এসব অবৈধ জায়গায় দোকান নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন| এলাকায় জোরালো অভিযোগ রয়েছে যে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে বা গোপন চুক্তিতে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ দখলের মহোৎসব নির্বিঘ্নে ও দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি|

অবশ্য মূল অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা জলাশয় ভরাট করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন| তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন যে, তিনি আসলেই মাছ চাষের জন্য ৪৫ শতক জমি আইন মেনে লিজ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মার্কেট নির্মাণের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ বাণিজ্যিক অনুমোদনও সংগ্রহ করেছেন, যদিও রেলওয়ে এমন কোনো অনুমোদনের কথা স্বীকার করেনি| তার দাবি, তিনি একা নন, তার আগেও এলাকার আরও অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি জলাশয় ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাই বর্তমান জলাবদ্ধতার জন্য এককভাবে তাকে দায়ী করা চরম অন্যায়| তবে মার্কেট নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের কাছে দোকান ও প্লট বিক্রির সত্যতা তিনি নিজ মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন, যা তার অপকর্মের একটি বড় প্রমাণ|

রেলওয়ের নিজস্ব জায়গায় এই ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দখলের বিষয়ে সরদহ রোড রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইকবাল কবির তার চরম অসহায়ত্বের কথা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন| তিনি জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের রাজনৈতিক ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে রেলের এই মহামূল্যবান জমি দখল করে রাতারাতি স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছেন| তিনি তার আওতাভুক্ত এলাকার দায়িত্বশীল হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে তাদের বাধা দিলেও তারা সেই সরকারি নির্দেশ মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেন না বরং উল্টো চোখ রাঙান| বাধ্য হয়ে তিনি পুরো বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন| এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নাদিম সারওয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানিয়েছেন যে, নন্দনগাছী এলাকার রেলের জমি দখলের এই গুরুতর অভিযোগটি ইতিমধ্যেই তাদের নজরে এসেছে এবং এটি নিয়ে তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেছেন| তিনি সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই রেলওয়ের মূল নকশা ও ম্যাপ অনুযায়ী ওই এলাকায় একটি কঠোর ও নিরপেক্ষ জরিপ চালানো হবে| জরিপে দখলের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বুলডোজার দিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে রেলের জমি পুনরায় উদ্ধার করা হবে| তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মাছ চাষের জন্য লিজ নেওয়া জলাশয় ভরাট করে সেখানে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের কোনো আইনি সুযোগ রেলওয়ের ম্যানুয়ালে নেই| তদন্তে এই জালিয়াতি ও চুক্তিবঙ্গের সত্যতা প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাদের লিজ বাতিল করাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেছেন|

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...