মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

জনরায়ের নতুন যাত্রা; প্রত্যাশা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘ ২০ বছরের রাজনৈতিক প্রতীক্ষা এবং গত ১৮ মাসের এক বিশেষ পরিস্থিতির পর আজ বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। ‘দৈনিক দিনবদল’-এর পক্ষ থেকে আমরা নতুন সরকারকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী একটি উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার যে নিরঙ্কুশ জনসমর্থন লাভ করেছে, তা আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। জনগণের এই বিশাল রায়ের পেছনে রয়েছে এক বুক প্রত্যাশা—এক বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। নতুন প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুরুতেই শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবং বিভেদ ঘুচিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের’ ডাক দিয়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, যা জনমনে আশার সঞ্চার করেছে।

তবে এই নতুন যাত্রার পথটি কুসুমাস্তীর্ণ নয়। নতুন সরকারকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে যখন দেশের অর্থনীতির কাঁধে চেপেছে ২৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা এবং মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগের আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা হবে নতুন সরকারের জন্য প্রথম বড় অগ্নিপরীক্ষা। এছাড়া, গত ১৮ মাসে যে ‘মব জাস্টিস’ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, তা দ্রুততম সময়ে নিয়ন্ত্রণে এনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও তারেক রহমানের সরকারকে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পরিচয় দিতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান এবং ভূরাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এক বড় চ্যালেঞ্জ। তুরস্ক, ভুটান, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে যেভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তা নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।

শিক্ষাব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা রোধ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ‘১ কোটি কর্মসংস্থান’-এর ইশতেহার বাস্তবায়নই হবে এই সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি। মন্ত্রিসভায় প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্দীপনার যে সমন্বয় দেখা গেছে, তা যদি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশ দ্রুতই সংকটের আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দিনবদলের যে অঙ্গীকার নিয়ে এই সরকার যাত্রা শুরু করল, তা যেন কেবল ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ না থাকে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দেওয়াই হোক নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

আমরা নতুন সরকারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।


এ জাতীয় আরো খবর...