দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় সংগীত রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। তবে শো-টির স্বচ্ছতা এবং এটি ‘স্ক্রিপ্টেড’ কি না—তা নিয়ে দর্শকদের মনে দীর্ঘদিনের কৌতূহল। সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্ট ‘ফিগারিং আউট’-এ এসে এই বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন এই জনপ্রিয় গায়িকা।
শো-টির অন্দরমহলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে শ্রেয়া স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ এপিসোডগুলোতে দর্শকদের ধরে রাখতে বিচারক এবং উপস্থাপকদের মধ্যকার কিছু কথোপকথন, কৌতুক বা নাটকীয় মুহূর্তগুলো অনেকটা পরিকল্পনামাফিক সাজানো থাকে। তার মতে, টানা গান শুনতে শুনতে দর্শকদের মধ্যে যাতে একঘেয়েমি তৈরি না হয়, সেজন্যই বিনোদনের খাতিরে এই নাটকীয়তার আশ্রয় নেওয়া হয়।
তবে বিনোদনের মোড়কে অনুষ্ঠানের মূল ভিত্তি নিয়ে কোনো আপস করা হয় না বলেই দাবি শ্রেয়ার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিযোগীদের গাওয়া গান এবং তাদের সংগীত প্রতিভা শতভাগ খাঁটি। রিয়েলিটি শোর মতো মঞ্চে সংগীতের এই সত্যতাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই কারণটিই তাকে বারবার বিচারকের আসনে বসতে উদ্বুদ্ধ করে।
অনেক সময় রিয়েলিটি শো-গুলোতে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবনের করুণ গল্প বা আবেগী মুহূর্ত বেশি দেখানো হয় কেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন শ্রেয়া। তিনি মনে করেন, এই গল্পগুলোর মাধ্যমেই সাধারণ দর্শকরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সংযুক্ত হতে পারেন। গায়িকা আরও যোগ করেন, “অনেক সময় মানুষ হয়তো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিযোগীর নাম ভুলে যায়, কিন্তু তার জীবনের সেই গল্প বা পরিচয়—যেমন ‘গজল গায়ক’ বা ‘ছোট শহরের প্রতিযোগী’—দর্শক মনে রাখে অনেক বছর।”
প্রসঙ্গত, নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অগণিত পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। সংগীতের প্রতি তার অটুট শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার কারণেই রিয়েলিটি শোয়ের এই বিতর্কিত দিকগুলো নিয়ে তার এই খোলাখুলি বক্তব্য ভক্তদের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।