ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। আলভীর সঙ্গে তাঁর কথিত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল, তখন নিজের অতীত এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন এই তরুণ অভিনেত্রী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইকরার পরিবারের দাবি, জাহের আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী তিথির পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনায় আলভী, তাঁর মা এবং তিথিকে আসামি করে পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
সামাজিক মাধ্যমে চলা নেতিবাচক প্রচার ও ট্রলের জবাবে তিথি সম্প্রতি ইকরার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কথোপকথনের (Chat) ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। তিথির দাবি:
ইকরার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি বারবার ইকরাকে তাঁর সংসার টিকিয়ে রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন।
আলভী তাঁর শুধুমাত্র ‘ভালো বন্ধু’ এবং সহকর্মী, কোনো প্রেমিকা নন।
ইকরা নিজেই পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্টের কথা তিথিকে জানাতেন।
তিথির অতীত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা নানা কটু মন্তব্যের জবাবে তিনি বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। তিথি জানান, তাঁর আগের সংসারটি বনিবনা না হওয়ায় আইনিভাবে বিচ্ছেদ হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “লাশ হয়ে বের হওয়ার চেয়ে ডিভোর্সি ট্যাগ নিয়ে থাকা ভালো।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সাবেক স্বামী যখন তাঁকে বিয়ে করেন, তখন তিনি আগে থেকেই ডিভোর্সড ছিলেন; তাই কারও ঘর ভাঙার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সাবেক স্বামীর সন্তানদের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শোনা যাচ্ছে, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তিথিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইকরার পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা এই অব্যাহতির প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন এবং আলভী-তিথিকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা জাহের আলভী এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, ইকরা আগে থেকেই অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং তাদের সম্পর্কটা শুরু থেকেই ‘টক্সিক’ ছিল।