মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

২০ কুকুর হত্যার দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ধলপুর এলাকায় ২০টি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৮ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আসামি ও সাজা

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আবুল খায়ের, মো. অপু ও মো. মানিক। রায়ের সময় আসামি মানিক আদালতে উপস্থিত থাকায় তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুইজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রায়ের বিস্তারিত: আদালত প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ এর দুটি ধারায় আসামিদের সাজা প্রদান করেছেন:

  • ১৬(ক) ধারা: ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড)।

  • ১৬(খ) ধারা: ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড)।

  • সমন্বিত সাজা: উভয় ধারার সাজা একত্রে চলবে বিধায় প্রত্যেক আসামিকে কার্যত ২ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর লিচুবাগান এলাকায় আসামিরা লোহার রড, সাঁড়াশি এবং প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহার করে ২০টি কুকুরকে হত্যা করে। এরপর মৃত কুকুরগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ফুটেজে তারা শনাক্ত হয়।

পরবর্তীতে ‘অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশ’-এর স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষে মো. মারুফুল হক আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে প্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে এই রায়কে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন প্রাণী অধিকার কর্মীরা। সাধারণত প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার মামলায় সাজা হওয়ার নজির কম থাকলেও, ২০১৯ সালের নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগ ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...