মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র শায়েবাহ অয়েল ফিল্ডে ড্রোন হামলার ঘটনার পর গতকাল রবিবার তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান যদি আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্বিচারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে দেশটিকে ‘সর্বোচ্চ পরাজয়ের’ সম্মুখীন হতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি এমন কড়া সতর্কবার্তা দিল সৌদি আরব। বিবৃতিতে তেহরানের বর্তমান কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই। বরং তার কথা ও কাজের মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরান ধারাবাহিকভাবে আরব দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এই আগ্রাসী মনোভাব যদি বন্ধ না হয়, তবে রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ও গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের ডামাডোলে ইরান যদি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এ ধরনের হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে, যা এই সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে।