শিরোনামঃ
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

ধর্মচিন্তা / ৬১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

আজ সেই বরকতময় রাত, যার শান্তি ও রহমতের ধারা উষার আবির্ভাব পর্যন্ত জারি থাকে। পবিত্র আল-কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, এই রাতটি এমন এক সময় যখন মানবজাতির ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ইবাদতের সওয়াব হাজার মাসের চেয়েও বেশি পাওয়া যায়।

১. কোরআন নাজিলের রাত

লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এই রাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অন্ধকার থেকে আলোর দিশারি পবিত্র আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। সুরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াতের মাধ্যমে মানুষকে ‘পড়ো’ (ইকরা) বলে শিক্ষার সবক দেওয়া হয়েছিল এই রজনীতেই।

২. সহস্র মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেন?

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, বনি ইসরাইলের জনৈক মুজাহিদ এক হাজার মাস অবিরাম জিহাদে মশগুল ছিলেন। সাহাবিরা এই দীর্ঘ ইবাদতের কথা শুনে আক্ষেপ করলে আল্লাহ তাআলা সুরা কদর নাজিল করেন। তিনি উম্মতে মুহাম্মাদিকে এমন এক রাত উপহার দেন, যার মাত্র এক রাতের ইবাদত ওই মুজাহিদের এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

৩. ফেরেশতাদের পদচারণা ও ভাগ্য নির্ধারণ

সুরা দুখান ও সুরা কদরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী:

  • এই রাতে ফেরেশতা ও ‘রূহ’ (জিবরাঈল আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।

  • পরবর্তী এক বছরের আয়ু, রিজিক, জন্ম ও মৃত্যুর তালিকা এই রাতে প্রধান চার ফেরেশতা—জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফিল ও আজরাঈল (আ.)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৪. অন্বেষণের রাত

রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবেকদর তালাশ করতে। যদিও ২৭ রমজানের রাতটি আমাদের ঐতিহ্যে বিশেষভাবে পালিত হয়, মুমিন মুসলমানরা পুরো শেষ দশক ইবাদতের মাধ্যমে এই মহিমান্বিত রাতটি পাওয়ার চেষ্টা করেন।

৫. মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও শিক্ষার গুরুত্ব

কুরআনের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ বা ‘পাঠ করো’ মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। শিক্ষার মাধ্যমেই আল্লাহ মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কদরের এই রাতটি সেই জ্ঞান ও ঐশ্বরিক বাণীর মশাল হাতে নেওয়ার রাত।


এ জাতীয় আরো খবর...