বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

সুপারগার্লের ব্যর্থতার পর কী হবে ডিসি স্টুডিওজের পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছিল ‘সুপারম্যান’-এর সাফল্যের মধ্য দিয়ে। ইতিবাচক সমালোচনা ও বাণিজ্যিক সাফল্য দুটোই অর্জন করেছিল সুপারম্যান। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিনের টালমাটাল অবস্থার পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ডিসি। কিন্তু সে আশাবাদে বড় ধাক্কা দিল সুপারগার্ল। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম আয় করায় ডিসি ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রায় ১৭ কোটি ডলারে নির্মাণ হয়েছে সুপারগার্ল। বিপণনে খরচ হয়েছে আরো ১২ কোটি ডলার। প্রথম সপ্তাহ শেষে সিনেমাটি উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে মাত্র ৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার। সারা বিশ্ব থেকে মোট আয় করেছে ৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বব্যাপী ২০-২১ কোটি ডলারের বেশি আয় করতে পারবে না সুপারগার্ল। সেক্ষেত্রে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের লোকসান দাঁড়াতে পারে ৮-১২ কোটি ডলারের মধ্যে। তাহলে এরপর কী করবে ডিসি?

এ ব্যর্থতা শুধু একটি সিনেমার বাণিজ্যিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নতুন ডিসি ইউনিভার্সের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কারণ সুপারম্যানের সাফল্যের পর স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী ডেভিড জাসলাভ নতুন ডিসি ইউনিভার্সের ‘সাহসী ১০ বছরের পরিকল্পনা’ নিয়ে প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সুপারগার্ল দেখিয়ে দিল, একটি সফল ছবি দিয়ে পুরো চলচ্চিত্র মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায় না।

বক্স অফিস বিশ্লেষক জেফ বক মনে করেন, এ ব্যর্থতা অনেকটাই অনুমেয় ছিল। তার ভাষায়, ‘ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জন্য শুরু থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ ইভেন্ট লেভেলের ব্লকবাস্টার তৈরির মতো চরিত্র সুপারগার্ল নয়। দর্শকের চোখেও চরিত্রটির গ্রহণযোগ্যতা খুব শক্তিশালী ছিল না। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি এতটা ভালোও হয়নি যে সেটি একটি বড় সিনেমা-ইভেন্টে পরিণত হবে।’

তবে সুপারগার্লের ব্যর্থতা সত্ত্বেও ডিসি স্টুডিওজ তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না। পিটার সাফরান স্পষ্ট বলেছেন, ‘সুপারগার্ল আমাদের প্রত্যাশামতো বক্স অফিস ফলাফল পায়নি। কিন্তু এটি ডিসি স্টুডিওজের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের মাত্র একটি অংশ। আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এখনো আত্মবিশ্বাসী।’

সাফরানের বক্তব্যে বোঝা যায়, ডিসি এ ব্যর্থতাকে পুরো পরিকল্পার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে না। বরং তারা বিশ্বাস করছে, দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকভাবে ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে দর্শকের আস্থা আবারো ফিরে আসবে।

অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতিকে সুপারহিরো ফ্যাটিগ (সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত/বিরক্ত) হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু চলচ্চিত্র বিশ্লেষক শন রবিনস সে ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তার মতে, ‘আমরা অনেক সুপারহিরো সিনেমা দেখেছি, কিন্তু আমি এটাকে সরাসরি সুপারহিরো ফ্যাটিগ বলতে চাই না। বরং দর্শক একই ধরনের সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত। তারা শুধু একটি ইউনিভার্সের অংশ বলেই সিনেমা দেখতে চান না। তারা নতুন কিছু দেখতে চান।’

রবিনসের এ পর্যবেক্ষণ পুরো হলিউডের আমলে নেয়া উচিত। কেননা কেবল ডিসিই না, মার্ভেলও এ সমস্যায় ভুগছে। এ বাস্তবতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে ডিসি স্টুডিওজ কম পরিচিত চরিত্র নিয়ে নির্মিত সিনেমার বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ডিসির পরবর্তী ছবি ‘ক্লেফেস’ নির্মাণ হচ্ছে মাত্র ৪ কোটি ডলারের বাজেটে। বডি হরর ঘরানার এ ছবির মাধ্যমে স্টুডিও একদিকে যেমন আর্থিক ঝুঁকি কমাচ্ছে, অন্যদিকে সুপারহিরো ঘরানার বাইরে নতুন স্বাদ দেয়ারও চেষ্টা করছে। একই সময় জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর ওপরও ভরসা রাখছে স্টুডিও। এছাড়া আগামী বছর মুক্তি পাওয়ার কথা ‘সুপারম্যান: ম্যান অব টুমরো’। এ সিনেমা দিয়ে ডিসি আবার মুনাফায় ফিরবে এমন বিশ্বাস সিনেমাসংশ্লিষ্টদের।


এ জাতীয় আরো খবর...