দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আগামীকাল শনিবার সারা দেশে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শুক্রবার ৩০টি রোজা পূর্ণ হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে শনিবার ঈদ উদযাপনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চাঁদ দেখা না যাওয়ার কারণে নতুন করে আর কোনো বৈঠকের প্রয়োজন হয়নি বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসী ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ঈদ জামাতের সব ধরনের প্রস্তুতিও চমৎকারভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই বিশাল জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে কিংবা অন্য কোনো কারণে এখানে নামাজ পড়া সম্ভব না হলে, সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাতটি স্থানান্তর করা হবে। জাতীয় ঈদগাহে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশপথ ও সংরক্ষিত ওজুখানা। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদগাহ ময়দান ও এর আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রবেশপথগুলোতে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে বসানো হয়েছে। পুলিশের পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরাও সার্বক্ষণিক মাঠে তৎপর থাকবেন। অন্যদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায়, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজধানীর বাইরে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠ। সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এটি হবে এই ঈদগাহের ১৯৯তম জামাত, যেখানে প্রায় তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিশাল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে সেখানে পাঁচ স্তরের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে। উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও কারাগারগুলোতে বিশেষ উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে জাদুঘর, শিশু পার্ক, লালবাগের কেল্লা ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের চমৎকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।