আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংসদে দলটির ৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকায় আনুপাতিক হারে তারা একটি আসন নিশ্চিত করেছে। তবে জোটগত সমীকরণে জামায়াতে ইসলামী আরও একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় এনসিপি থেকে দুজন নারী সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এনসিপির দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী ও মেধাবী নারী নেত্রীদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
ডা. মাহমুদা মিতু: কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব। (তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন)
নুসরাত তাবাসসুম: কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক। (তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে)
সামান্তা শারমিন: সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
মনিরা শারমিন ও অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর: কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক।
ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ: পেশাজীবী কোটায় আলোচনায় রয়েছেন।
দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এ প্রসঙ্গে জানান, “দল কাকে মনোনয়ন দেবে সেটি দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানিয়েছেন, এনসিপিকে আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “জোটের পক্ষ থেকে এনসিপি থেকে দুজন যেতে পারেন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের তথ্যমতে, ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে:
বিএনপি জোট: ৩৬টি আসন।
জামায়াত-এনসিপি জোট: ১৩টি আসন।
স্বতন্ত্র: ১টি আসন।
এনসিপি যেহেতু একটি আন্দোলনমুখী পটভূমি থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তাই নারী সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সংসদীয় বিতর্কে পারদর্শিতাকে মূল মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন কার হাতে যাবে, তা এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম এবং আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে।
একনজরে এনসিপির সম্ভাব্য আসন:
নিশ্চিত আসন: ১টি।
সম্ভাব্য অতিরিক্ত আসন: ১টি (জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায়)।
শীর্ষ দুই নাম: ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
সূত্র: নির্বাচন কমিশন ও এনসিপি কেন্দ্রীয় দপ্তর।