যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার মুখে পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজন মনে করবেন, ততদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল আকরামিনিয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যতদিন উপযুক্ত মনে করবেন, ততদিন আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারি। এই যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আমাদের এমন এক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছাতে হবে যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো যুদ্ধের সাক্ষী হতে না হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, তেহরানের বর্তমান সামরিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) তাদের আগ্রাসনের জন্য ‘প্রকৃত অনুতাপে’ বাধ্য করা। যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কখনো ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার সাহস না পায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন যে, এর মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে’। তবে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এই হুমকিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। আকরামিনিয়া দাবি করেছেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে শত্রুরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় আকারের সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা ইরানকে এক নজিরবিহীন সংকটে ফেলে দেয়। তবে বর্তমান নেতৃত্ব ‘প্রতিরোধের মাত্রা’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। ট্রাম্পের মঙ্গলবার পর্যন্ত দেওয়া আল্টিমেটামের কারণে সোমবার থেকেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদনের মূল সারসংক্ষেপ:
ঘোষণা: রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান।
লক্ষ্য: দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শত্রুকে চরম শিক্ষা দেওয়া।
পরিস্থিতি: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার মুখে।
প্রভাব: ট্রাম্পের আল্টিমেটামের বিপরীতে ইরানের কঠোর অবস্থান তেলের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
আশা করা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবারের সময়সীমার আগেই কোনো সমাধান আসবে, অন্যথায় এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস।