মঙ্গলবার রাত ৮টার (মার্কিন সময়) মধ্যে পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রের নাম মুখে নেননি, তবে তিনি বলেছেন, “সবচেয়ে বড়টি দিয়েই ধ্বংসলীলা শুরু করা হবে।” বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকির নিশানায় রয়েছে ইরানের পাঁচটি প্রধান পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।
তেহরান থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ক্ষমতা: প্রায় ২,৯০০ মেগাওয়াট।
গুরুত্ব: এটি একাই ২০ লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড়টি আগে’—এই সূত্র ধরলে এটিই তালিকার শীর্ষে।
কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত এই বিশাল কেন্দ্রটি উত্তর ইরানের বিদ্যুতের প্রধান উৎস।
ক্ষমতা: ২,২১৫ মেগাওয়াট।
জ্বালানি: প্রাকৃতিক গ্যাস।
কাজভিনের কাছে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি তেহরান ও এর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্ষমতা: ২,০৪৩ মেগাওয়াট।
খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর ওপর নির্মিত এই বিশাল বাঁধটি ইরানের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র।
ক্ষমতা: ২,০০০ মেগাওয়াট। এটি ধ্বংস করা হলে কেবল বিদ্যুৎ বিপর্যয়ই নয়, বরং বিশাল এলাকায় বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত ইরানের একমাত্র এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
ক্ষমতা: ১,০০০ মেগাওয়াট।
ঝুঁকি: মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় এই কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ৮৬ শতাংশ নির্ভরশীল। ট্রাম্প যদি দেশটির প্রধান গ্যাস-ফিল্ড বা বড় থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো লক্ষ্যবস্তু করেন, তবে পুরো ইরান মুহূর্তেই ‘ব্ল্যাকআউট’-এ চলে যাবে।
একনজরে ঝুঁকিতে থাকা প্রধান ৫ কেন্দ্র:
| বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম | অবস্থান | জ্বালানির ধরন | উৎপাদন ক্ষমতা (MW) |
|---|---|---|---|
| দামাওয়ান্দ (পাকদাশত) | তেহরান (দক্ষিণ-পূর্ব) | প্রাকৃতিক গ্যাস | ২,৮৬৮ MW |
| শহীদ সালিমি (নেকা) | কাস্পিয়ান উপকূল | প্রাকৃতিক গ্যাস | ২,২১৫ MW |
| শহীদ রাজায়য়ী | কাজভিন | প্রাকৃতিক গ্যাস | ২,০৪৩ MW |
| কারুন-৩ বাঁধ | খুজেস্তান | জলবিদ্যুৎ | ২,০০০ MW |
| বুশেহর কেন্দ্র | উপসাগরীয় উপকূল | পারমাণবিক | ১,০০০ MW |
ট্রাম্পের এই হুমকি কেবল সামরিক নয়, বরং এটি ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়ের’ হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হলে হাসপাতাল থেকে শুরু করে জরুরি সব সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। মঙ্গলবারের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এখন এই মেগা প্রকল্পগুলোর ভাগ্য ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়।