বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত জলপথ উন্মুক্ত করা হবে না। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আগামী মঙ্গলবার দেশটিতে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপপ্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবায়ী জানিয়েছেন, ট্রানজিট ফির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক ভয়াবহ পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আগামী মঙ্গলবার ইরানে ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস’ ও ‘সেতু দিবস’ পালিত হবে—যা মূলত ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সেতুগুলোতে মার্কিন হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও, নয়তো তোমাদের নরকে বাস করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আজ সোমবারের মধ্যে কোনো চুক্তিতে না আসলে তিনি ইরানের তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবেন।
ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রুকে (কর্নেল পদমর্যাদার) উদ্ধার করা নিয়ে দুই দেশ ভিন্ন দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রায় ৭ ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমায় অবস্থান করে দিনের আলোতে এক দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে গুরুতর আহত পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরানের দাবি: ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি দাবি করেছেন, তারা মার্কিন উদ্ধার অভিযান নস্যাৎ করে দিয়েছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় ৫ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া তারা দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ধ্বংস করার ছবিও প্রকাশ করেছে।
সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় রামাত হোভাভ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইয়েমেনের হুথিরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রাসায়নিক ভীতিতে বিমানবন্দর খালি করতে হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ‘বোরুজ পেট্রোকেমিক্যাল’ কারখানায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের প্রধান শর্ত
যুদ্ধের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম
মঙ্গলবারের মধ্যে প্রণালি খোলা
হামলার লক্ষ্যবস্তু (মঙ্গলবার)
বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু
আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতি
আবুধাবি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট