ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চিকিৎসক, শিক্ষক ও আইনজীবীসহ পেশাজীবী নারীদের প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ২৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত ১৩ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে জোটভিত্তিক নারী আসন বণ্টন করা হয়েছে।
বিএনপি জোট: ৩৬টি আসন (সংসদে ২০৮ জন প্রতিনিধি ও শরিকদের ভোটসহ)।
জামায়াতে ইসলামী জোট: ১৩টি আসন (জামায়াতের ৬৮ জন ও এনসিপির ৬ জন প্রতিনিধির সমর্থনসহ)।
স্বতন্ত্র: ১টি আসন।
জামায়াতের সাথে এই জোটে এনসিপি ও খেলাফত আন্দোলন যুক্ত রয়েছে। এনসিপি একটি আসন পাওয়ায় তাদের আরও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানান, প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ধার্মিকতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, যারা বর্তমানে সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়দের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। যদিও আমিরের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম এবং নায়েবে আমিরের স্ত্রী হাবিবা রহমান সুইটের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করবেন।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও জামায়াতের অন্দরে যে নামগুলো সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে: ১. নুরুন্নেসা সিদ্দীকা: সেক্রেটারি, জামায়াতের মহিলা বিভাগ। ২. ফাতেমা আক্তার হ্যাপি: কেন্দ্রীয় নেত্রী। ৩. আয়েশা সিদ্দীকা পারভীন: সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ নারী বিভাগ। ৪. অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী: কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের স্ত্রী। ৫. মারদিয়া মমতাজ: ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা (তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে)।
জামায়াতে ইসলামী এর আগে ১৯৯১ সালে ১৮টি আসনের বিপরীতে ২টি সংরক্ষিত নারী আসন এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসনের বিপরীতে ৪টি নারী আসন লাভ করেছিল। এবার ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে দলটি রেকর্ড ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে।
একনজরে সংরক্ষিত নারী আসন ২০২৬:
মোট আসন: ৫০টি।
ভোটের তারিখ: ১২ মে, ২০২৬।
জামায়াত জোটের প্রাপ্তি: ১৩টি আসন।
প্রধান মানদণ্ড: পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, জোটভুক্ত দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতেই এই আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াতের এই ১৩ নারী সংসদ সদস্যের অন্তর্ভুক্তিতে সংসদে দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: নির্বাচন কমিশন ও জামায়াতে ইসলামী প্রচার বিভাগ।