দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। গত বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শুক্রবার ৩০টি রোজা পূর্ণ হয় এবং আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিপুল উৎসাহ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে আজ উৎসবের আমেজ। ভোরে নতুন পোশাক পরে, গায়ে সুগন্ধি মেখে ঈদগাহ ও মসজিদগুলোর দিকে ছুটেছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ। সবার মুখে হাসি আর একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত ঢাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত আজ সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই বিশাল জামাতে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
জাতীয় ঈদগাহে এবার প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা প্রবেশপথ, সংরক্ষিত ওজুখানা এবং নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।
বায়তুল মোকাররম ও অন্যান্য স্থানে ঈদ জামাত প্রধান জামাতের পাশাপাশি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম জামাতটি সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং এরপর এক ঘণ্টা পরপর বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত বাকি জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি জামাতেই হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত শোলাকিয়ায় রাজধানীর বাইরে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এটি এই মাঠের ১৯৯তম ঈদ জামাত। তিন লাখেরও বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণে এই সুবিশাল জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তাঁরা ঈদের এই আনন্দ সবার মাঝে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
উৎসবের রঙে দেশ ঈদের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা ও ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে সড়কদ্বীপগুলো।
ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক, জাদুঘর ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এই উৎসব দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনুক, এটাই আজকের দিনের একমাত্র প্রত্যাশা। ঈদ মোবারক!