শিরোনামঃ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক: নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ: ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ শ্লোগানে নতুন অঙ্গীকার আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবিটি গুজব ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘গর্জন’: দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি: আলোচনায় মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমসহ একঝাঁক মুখ সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ১৩ প্রার্থী চূড়ান্ত: শিগগিরই আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ‘আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি, কিছুই বাকি থাকবে না’: ট্রাম্প ট্রাম্পের নিশানায় ইরানের কোন কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র? ‘রাজনৈতিক সবুজ সংকেত পেলেই চলবে যুদ্ধ’: ইরানের সেনাবাহিনীর কঠোর বার্তা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: একনজরে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসমূহ
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

নিপীড়ক ধরতে কেন এত বিলম্ব?

-রিন্টু আনোয়ার / ৩৮ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

-রিন্টু আনোয়ার:

এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে বা থাকতে পারে- তা ভাবেননি দেশের রাজনীতির ময়দানে সিডর বইয়ে দেয়া ওয়ান ইলেভেনের হোতারা। সেই জুলুমের হোতাদের অন্যতম তখনকার দুর্দান্ত প্রতাপশালী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে একটি বার্তা এলো। দ্বিতীয় বার্তা মিললো  প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক আরেক অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে পাকড়াওর মাধ্যমে। ডিজিএফআইকে কদাকারভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় শেখ মামুনের ভূমিকাও কেউ কেউ ভুলে যেতে বসেছিলেন।
২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় মাসুদ ছিলেন ক্ষমতার অপব্যবহারের অন্যতম। গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান হিসেবে  শীর্ষ রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিশিষ্ট-প্রতিষ্ঠিতদের খলনায়ক বানিয়ে  গ্রেপ্তার, নির্যাতন, অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়া, ইজ্জত-সম্মান ধুলায় মিশিয়ে দেয়াসহ কোনো কুকর্মই বাদ দেননি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এক-এগারোর নেপথ্যের সেই প্রভাবশালী কর্মকর্তার গ্রেফতারসহ হাল পরিণতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সেই অস্বাভাবিক-দুঃসময়ের ঘটনা। যে বা যারা সেই জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারাই হাড়ে হাড়ে তা উপলব্ধি করছেন। যারা এখনো জীবিত আছেন তারা এখনো ঘুমের ঘোরে আঁতকে ওঠেন। অমাবশ্যা-পূর্ণিমায় সেই ব্যথা বোধ করেন। তখন তিনি ছিলেন সাভারে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি। ডিজিএফআইর সঙ্গে মিলে চালিয়েছিলেন সকল ঘুটি। তাদের পরিকল্পণায় একটু দেরিতে পা দেন তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির দিন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে  যে সেনা কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে যান তাঁদের মূল আয়োজক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তার বেপরোয়া চাপের মুখে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারিতে বাধ্য হন।
এক-এগারোতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর এমন বেপরোয়াপনায় তার ভায়রা ভাই সাঈদ এস্কান্দারেরও (প্রয়াত) সম্মতি ছিল বলে তখন প্রচার ছিল। সাঈদ এস্কান্দার বেগম খালেদা জিয়ার ভাই। আবার মইন উ আহমেদকে যে কয়েকজন ডিঙিয়ে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল, তাতেও সাঈদ এস্কান্দারের প্রভাব ছিল বলে আলোচনা রয়েছে। তাঁরা দুজন সেনাবাহিনীতে ব্যাচমেট ছিলেন। মইন উ আহমেদ তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের বিষয় রাষ্ট্রপতিকে বোঝাতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে যান এবং সেই বৈঠকের পরই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত হয়। জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা-সমর্থিত নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এরপর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী হন গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি-টাস্কফোর্সের সমন্বয়ক। এই পদটিই ছিল মূলত তখনকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর। ওই টাস্কফোর্সের অধীনেই চলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে নারকীয় নির্যাতন। রাজনীতির খোলনলচে তছনছের চেষ্টাও চলে তার ইশারায়। তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল—ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিডিপি গঠনের প্রচেষ্টা। এক-এগারোর সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানসহ উভয় দলের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিশেষ কারাগারে শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন সেনা নেতৃত্বের রাজনৈতিক সমঝোতা হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে  শেখ হাসিনা জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদেশ চলে যান। কিন্তু অনেক চাপ সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যেতে রাজি হননি। নির্যাতন চালিয়ে তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে। কোকোকে আধমরা করে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাইনাস টু ফর্মুলার নামে জিয়া পরিবারকেই নিঃশেষ করে দেয়া ছিল তার অন্যতম এজেন্ডা।
একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে মাসুদ উদ্দিনের মতভেদ দেখা দেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২ জুন তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে দেন মইন উ আহমেদ। এরপর ২ সেপ্টেম্বর তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ায়।
১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী গঠিত হলে সেই বাহিনীতে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তার পাঁচ দিনের মাথায় তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর পরদিনই জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়ে বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে যান এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
সেইসাথে একাধিক ব্যবসার চাবিকাঠিও তুলে দেয়া হয় তার হাতে। হোটেল, রিক্রুটিং ব্যবসার লাইসেন্স নিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সিন্ডিকেটের গ্যাং লিডারও করা হয় তাকে।
প্রকৃতপক্ষে তার গোটা ক্যারিয়ারই বিতর্কিত। তিনি মূলত সেনাবাহিনীর লোক নন। ছিলেন রক্ষী বাহিনীতে। সেনাবাহিনীতে রক্ষীবাহিনীর আর কেউ এ পর্যায়ে আসতে পারেননি। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণবাণিজ্যের অভিযোগ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদ, কূটনৈতিক দায়িত্ব, রাজনীতি এবং শেষ পর্যন্ত মানবপাচার ও হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগসহ বিশেষ এক চরিত্রের দৃষ্টান্ত তিনি। ত্রাণের তেল চুরির মামলা থেকে বাঁচতে রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেওয়া সেই তরুণ কীভাবে দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং সবশেষে হাজার কোটি টাকার মালিক ও সংসদ সদস্য হলেন, সে গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। মানবপাচার, অর্থ আত্মসাৎ এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর নতুন করে বেরিয়ে আসে পুরনো কাহিনী। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নতুন নয়, বিচ্ছিন্নও নয়। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা এক জঘন্য  নেটওয়ার্কের অংশ।
১৯৫৪ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মাসুদের উত্থানের সিঁড়িটি তৈরি হয়েছিল ধুরন্ধর বুদ্ধিতে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শেখ মুজিবের শাসনামলে ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় মাসুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে একটি অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন। ২০ বছর বয়সি ধুরন্ধর যুবকের বিরুদ্ধে সে সময় ত্রাণ হিসেবে আসা পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে দুই ট্রাক তেল চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। ময়মনসিংহে সে তেল পাচার করে রাতারাতি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পকেটে পুরেছিলেন তিনি। এ অভিযোগ থেকে বাঁচতেই তার রক্ষীবাহিনীতে যোগদান। সেদিনের সে সাধারণ ক্লার্কই কালক্রমে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছা মাসুদ উদ্দিন। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি সেনাবাহিনীতে দ্রুত পদোন্নতি পেতে থাকেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো শুরু করেন সাঈদ ইস্কান্দারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হলে তার সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় মাসুদ উদ্দিনও সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করেন। ষষ্ঠ জেআরবি থেকে মাসুদের অন্তর্ভুক্তি হয় সেনাবাহিনীতে। জেআরবি অফিসারদের মধ্যে যাদের লেখাপড়া ছিল, যারা চতুর ছিল এবং দৌড়িয়ে আগে এসেছে, তাদের অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকিদের অন্য পদে অর্ন্তভূক্ত করা হয়। রক্ষীবাহিনীতে যোগ দিয়ে ভারতে একটি গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে প্রশিক্ষণ নেন মাসুদ। সেই সূত্রে ‘র’-এর সাথে গড়ে ওঠে এক নিবিড় সম্পর্ক। এই দানবীয় চরিত্রকে পাকড়াও করতে কেন এতো সময় লাগলো-এ জিজ্ঞাসা অনেকের।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, দেশের রাজনীতিকে বিরাজনীতিকিকরনের এ হোতাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে আরো আগেই। অভিযোগ থাকলেও কিছু তথ্য-প্রমাণ হাত করতে সময় লেগেছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আর শেখ মামুন খালেদ ছাড়া সেই খেলোয়াড়দের কেউই দীর্ঘকাল ধরে দেশে নেই।,বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন তারা। যে কারণে এ পর্যন্ত তাদেরকে বাংলাদেশের কোনো আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে হয়নি।
সূত্রমতে ততকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সেনা প্রধান মইন উ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই আছেন। তখনকার দাপটশালী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারীও থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন দুবাইয়ে চাকরি করেছেন কয়েক বছর। মেজর জেনারেল (অব.) সাঈদ জোয়ার্দার দুবাই-কানাডা যাওয়া আসার মধ্যে আছেন। জেনারেল মাসুদ ও মামুনের বাইরে ছোট বা অধস্তন পর্যায়ের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন সময়ে সময়ে। নেগেটিভ পারফরমেন্সের জন্য তারা এক সময় পুরস্কৃত হয়ে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজেছেন। জুটেছে অনেক প্রাপ্তি। এখন এর পরিণাম ভোগের মাত্রাটি কোন পর্যায়ে যাবে, তা দেখার অপেক্ষা। ইন্টারেস্টিং হচ্ছে, তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ারও কেউ নেই। তাদের মাধ্যমে উপকারভোগী বা তাদের ব্যবহারকারী কেউও টু শব্দ করছে না। মাসুদ চৌধুরীকে যে দল থেকে  এতোবার এমপি করে আনা হলো সেই দল জাতীয় পার্টির কোনো পর্যায় থেকে তার জন্য সমবেদনা নেই। একটি বিবৃতি দেয়ার ঝামেলায়ও যায়নি। যেন একদম অচেনা কেউ।
একাধিক সূত্র বলছে, মাসুদ চৌধুরীর কনফিডেন্স ছিল পরীক্ষিত পছন্দের জন হিসেবে ভারত তাকে সেইফ করবে। তেমন কিছু আশ্বাসও মিলেছিল। রাজনীতি কলুষিত করা, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে মন্দ কাজে ব্যবহার করা মামুন খালেদও রক্ষা পাওয়ার কিছু তদ্বিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু, বাস্তব বিপরীত। রাজনৈতিক-কূটনৈতিক প্রভূরা নিজেদের স্বার্থই বোঝে। অসময়ে গোলামের দায় নেয় না। হাদীর হত্যাকারী ফয়সালও যেমন বোঝেনি, সব গোলামের জন্য সব সময় মদদ মেলে না। তাই সে প্রভূ রাষ্ট্র থেকে পালানোর চিন্তা করেনি। যা ইতিহাসের করুণ পরিণতির দৃষ্টান্ত। কেবল মানুষকে নিপীড়ন, লুণ্ঠনের জন্য নয়, দেশকে বিরাজনীতিকরণের শাস্তি হলে ভবিষ্যতে দেশে মাসুদ, মামুন, বারী একবার জন্মাতে গেলে দশবার ভাববে। নইলে এরা সময়ের ব্যবধানে মাঝেমধ্যেই জন্মাবে। এতে সর্বনাশ হবে দেশের। ক্ষত তৈরি হতে থাকবে রাজনীতিতে। সুনাম নষ্ট হতে থাকবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ভরসাস্থল সেনাবাহিনীর। বার বার ঘটতে থাকলে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কেবল কঠিন নয়, অসম্ভবও।

লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
rintuanowar@gmail.com


এ জাতীয় আরো খবর...