জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারিভাবে রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে পাম্পগুলোতে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পে তেলের দেখা নেই, আর যেখানে আছে সেখানেও মিলছে সীমিত আকারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চরম অব্যবস্থাপনা। গাবতলী মাজার রোডের ডেনসো ফিলিং স্টেশনে মোটরবাইকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। ম্যানেজার মো. তুহিন জানান, ৫ দিন পর মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
একই চিত্র কল্যাণপুরের সাহিল ও এসপি ফিলিং স্টেশনে—সেখানে তেলের বোর্ড ‘শূন্য’ ঝোলানো। তবে আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও তার ঠিক উল্টো দিকের পাম্পটি ছিল তেলশূন্য।
১. সরবরাহ ঘাটতি: পাম্প মালিকদের অভিযোগ, আগে দৈনিক ৩-৪ গাড়ি তেল পেলেও এখন মিলছে মাত্র এক গাড়ি। ২. ডিপোর কড়াকড়ি: বিপিসি (BPC) সরাসরি রেশনিং না বললেও ডিপো থেকে তেল সরবরাহে কৃচ্ছ্রতা সাধন করছে। ১১টি দেশের সাথে সরাসরি তেল কেনার আলোচনা চললেও মাত্র দুটি দেশ থেকে নিশ্চয়তা মিলেছে। ৩. অবৈধ মজুত: বাড়তি মুনাফার আশায় অনেক পাম্প মালিক তেল মজুত করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার প্রতিটি রিফুয়েলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মকর্তারা প্রতিদিনের মজুত রেকর্ড করবেন এবং ডিপো থেকে আসা তেলের পরিমাপ চালান অনুযায়ী মিলিয়ে দেখবেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন মনে করেন, শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তিনি সরকারের প্রতি কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
সরকারি গাড়ি চলাচল সীমিত করা।
সরকারি অফিসগুলোতে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা।
স্কুল-কলেজের ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, “যাদের পে-অর্ডার আগে করা আছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”