সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। মিঠু চৌধুরীর শিষ্যদের এই মহসাফল্যের পেছনে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির গর্জনও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। মালদ্বীপের মাঠে লাল-সবুজের জার্সিধারী দর্শকদের সেই বাঁধভাঙা উল্লাস আর ভালোবাসা এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ভাই—ডেকলান সুলিভান ও রোনান সুলিভান, বাংলাদেশের সমর্থকদের আবেগে মুগ্ধ।
টুর্নামেন্টে খুব বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ পাননি ডেকলান সুলিভান। বদলি হিসেবে মাত্র দুটি ম্যাচ খেললেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। শিরোপা জিতে দেশে ফেরার পর হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত এক রাজকীয় সংবর্ধনায় ডেকলান সমর্থকদের নিয়ে তার মনের কথা বলেন।
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি বাংলা খুব ভালো বলতে পারি না, তবে আমি শুধু সমর্থকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা পৌঁছাতে চাই। অনলাইনে আপনারা যে পরিমাণ ভালোবাসা দিয়েছেন এবং মালদ্বীপে যারা গ্যালারিতে থেকে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন—সবকিছুই অনন্য। আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সমর্থকরাই বিশ্বের সেরা।”
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম নায়ক ছিলেন রোনান সুলিভান। পুরো আসরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ফাইনালে টাইব্রেকারে তার সেই সাহসী ‘পানেনকা শট’ বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত করে।
মাঠের লড়াই শেষে দেশে ফিরে রোনান প্রতিপক্ষ দেশগুলোর আগের তাচ্ছিল্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের কী খবর? নেপালের কী খবর? ভারতের কী খবর? তারা আমাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, জিজ্ঞেস করেছিল আমরা জিততে না পারলে কী হবে। আমার মনে হয়, আমাদের ট্রফিই এখন তাদের সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে।”
প্রধান কোচ
মিঠু চৌধুরী
ফাইনালের নায়ক
রোনান সুলিভান
ভেন্যু
মালদ্বীপ
সেরা সমর্থক
বাংলাদেশি ভক্তরা
“আপনারা অনলাইনে এবং মাঠে যে সমর্থন দিয়েছেন, তা সত্যিই বিশ্বের সেরা।” — ডেকলান সুলিভান
সাফজয়ী এই তরুণ ফুটবলারদের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবল আগামীতে আরও বড় মঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এমনটাই এখন প্রত্যাশা সমর্থকদের।