মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র ডিজেল সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল উত্তরবঙ্গ। জ্বালানি তেলের অভাবে গত তিন সপ্তাহে এ অঞ্চলের প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শুধু পরিবহন খাতই নয়, স্থবির হয়ে পড়েছে শতকোটি টাকার কৃষি বাণিজ্য এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
রাজশাহী জেলা ট্রাক-মালিক গ্রুপের তথ্যমতে, উত্তরবঙ্গে চলাচলকারী ১০ হাজার ট্রাকের মধ্যে প্রায় চার হাজার বর্তমানে তেলের অভাবে পড়ে আছে। একটি ট্রাকের সঙ্গে চালক ও হেলপার ছাড়াও লোড-আনলোডের কাজে জড়িত থাকেন আরও অন্তত ৫-৭ জন শ্রমিক। এই হিসাবে কেবল পরিবহন খাতের সঙ্গেই জড়িত প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ২২ বছর ট্রাক চালানো নওদাপাড়ার ফরিদ উদ্দিন জানান, তার কর্মজীবনে তেলের এমন তীব্র সংকট তিনি আগে কখনও দেখেননি।
উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান, আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি এবং মাছ ও পোল্ট্রি পণ্য সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ অঞ্চলে ১.৫৫ কোটি টন ধান এবং প্রায় ১.০৮ লক্ষ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু পরিবহন সংকটে আড়তদাররা মাঠপর্যায় থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে কাঁচামালের দাম বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচকাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপ ও শ্যালো মেশিনগুলো ডিজেল না পাওয়ায় ধান ও আম-লিচুর আবাদও হুমকির মুখে পড়েছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যেখানে দিনে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫-৯ হাজার লিটার। তবে ট্রাক মালিকদের অভিযোগ, কিছু পাম্প মালিক সিন্ডিকেট করে তেল আটকে রাখছেন, যার ফলে সাধারণ পরিবহন মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের মতে, এই সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত তদারকি এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
বন্ধ থাকা পণ্যবাহী ট্রাক
৪,০০০+ টি
মোট কর্মহীন শ্রমিক (আনুমানিক)
৫০,০০০ – ৭০,০০০ জন
মাছ উৎপাদন (২০২৫)
১.০৮ লক্ষ টন
ধান উৎপাদন (বার্ষিক)
১.৪৫ – ১.৫৫ কোটি টন