মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

উত্তরাঞ্চলে ডিজেল বিপর্যয়: বন্ধ ৪ হাজার ট্রাক, কর্মহীন অর্ধলাখ শ্রমিক

বিশেষ প্রতিবেদক | রাজশাহী / ৭ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র ডিজেল সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল উত্তরবঙ্গ। জ্বালানি তেলের অভাবে গত তিন সপ্তাহে এ অঞ্চলের প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শুধু পরিবহন খাতই নয়, স্থবির হয়ে পড়েছে শতকোটি টাকার কৃষি বাণিজ্য এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

শ্রমিক ও মালিকদের হাহাকার

রাজশাহী জেলা ট্রাক-মালিক গ্রুপের তথ্যমতে, উত্তরবঙ্গে চলাচলকারী ১০ হাজার ট্রাকের মধ্যে প্রায় চার হাজার বর্তমানে তেলের অভাবে পড়ে আছে। একটি ট্রাকের সঙ্গে চালক ও হেলপার ছাড়াও লোড-আনলোডের কাজে জড়িত থাকেন আরও অন্তত ৫-৭ জন শ্রমিক। এই হিসাবে কেবল পরিবহন খাতের সঙ্গেই জড়িত প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ২২ বছর ট্রাক চালানো নওদাপাড়ার ফরিদ উদ্দিন জানান, তার কর্মজীবনে তেলের এমন তীব্র সংকট তিনি আগে কখনও দেখেননি।

কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় আঘাত

উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান, আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি এবং মাছ ও পোল্ট্রি পণ্য সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ অঞ্চলে ১.৫৫ কোটি টন ধান এবং প্রায় ১.০৮ লক্ষ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু পরিবহন সংকটে আড়তদাররা মাঠপর্যায় থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে কাঁচামালের দাম বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচকাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপ ও শ্যালো মেশিনগুলো ডিজেল না পাওয়ায় ধান ও আম-লিচুর আবাদও হুমকির মুখে পড়েছে।

সিন্ডিকেট বনাম অপ্রতুল সরবরাহ

পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যেখানে দিনে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫-৯ হাজার লিটার। তবে ট্রাক মালিকদের অভিযোগ, কিছু পাম্প মালিক সিন্ডিকেট করে তেল আটকে রাখছেন, যার ফলে সাধারণ পরিবহন মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের মতে, এই সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত তদারকি এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

⚠️ উত্তরবঙ্গের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট (২০২৬)

বন্ধ থাকা পণ্যবাহী ট্রাক

৪,০০০+ টি

মোট কর্মহীন শ্রমিক (আনুমানিক)

৫০,০০০ – ৭০,০০০ জন

মাছ উৎপাদন (২০২৫)

১.০৮ লক্ষ টন

ধান উৎপাদন (বার্ষিক)

১.৪৫ – ১.৫৫ কোটি টন

🚨 বর্তমান পরিস্থিতি: পরিবহন বন্ধ থাকায় পচনশীল পণ্যের ব্যাপক লোকসান ও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি।
উৎস: জেলা ট্রাক-মালিক গ্রুপ, কৃষি সম্প্রসারণ ও মৎস্য অধিদপ্তর


এ জাতীয় আরো খবর...