বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে তিন মন্ত্রীর ছেলে ও এক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা / ১৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আমিনুল ইসলাম বুলবুল পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গঠিত নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়ে শুরুতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত ১১ সদস্যের এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বর্তমান সরকারের হেভিওয়েট তিন মন্ত্রীর ছেলে এবং এক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী। একই সাথে বিসিবির আইসিসি অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে ‘অ্যাডহক কমিটি’র কোনো অস্তিত্ব না থাকায় বড় ধরণের আইনি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কমিটিতে ‘পরিবারতন্ত্রের’ ছায়া?

অ্যাডহক কমিটির ১১ জনের মধ্যে অন্তত ৪ জন সদস্য সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট:

  • মির্জা ইয়াসির আব্বাস: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে।

  • সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে।

  • ইসরাফিল খসরু: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে।

  • ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।

এছাড়া কমিটির ১১ জনের মধ্যে ৫ জনই (তামিমসহ) চট্টগ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় আঞ্চলিক ভারসাম্যের অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ক্রীড়া মহলে।

কেন ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুল পর্ষদ?

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানান, গঠনতন্ত্রের ৯.৩.৩ ধারা লঙ্ঘন করে ১০ জন প্রাক্তন খেলোয়াড়কে কাউন্সিলর মনোনীত করেছিলেন বুলবুল। এনএসসি এটিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছে। এনএসসি অ্যাক্ট ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ফেডারেশন যদি স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করে, তবে এনএসসি তা ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

গঠনতন্ত্র বনাম এনএসসি আইন

বিসিবির ২০২৪ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটির কোনো উল্লেখ নেই। বিসিবির সবশেষ তিনটি নির্বাচনও এই প্রক্রিয়ায় হয়নি। আইসিসি সব সময় ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের বিপক্ষে। যেহেতু আইসিসি অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটির বিধান নেই, তাই তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির বৈধতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কি আসছে?

বিসিবি ভেঙে দেওয়ায় আইসিসির নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি এনএসসি। তবে তারা দাবি করেছে, বিসিবির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। একটি সূত্র জানায়, বিসিসিআই প্রধান তথা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর কাছ থেকে এক ধরণের সবুজ সংকেত নিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। যদিও আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

তামিমের বক্তব্য: ‘সুষ্ঠু নির্বাচনই লক্ষ্য’

বিসিবির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য তিন মাসের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করব যেখানে সবাই অংশ নিতে পারবে।” অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে তামিম ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিসিবির ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি

একনজরে সদস্যদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

নাম পদবী পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা
তামিম ইকবাল সভাপতি সাবেক জাতীয় অধিনায়ক (চট্টগ্রাম)
মির্জা ইয়াসির আব্বাস সদস্য প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার ছেলে
সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে (চট্টগ্রাম)
ইসরাফিল খসরু সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ছেলে (চট্টগ্রাম)
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সদস্য সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক (চট্টগ্রাম)
সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ সদস্য সাবেক অধিনায়ক ও আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার
সালমান ইস্পাহানি সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (চট্টগ্রাম)
তানজিল চৌধুরী সদস্য সাবেক বিসিবি পরিচালক ও ব্যবসায়ী
রফিকুল ইসলাম বাবু সদস্য ক্রীড়া সংগঠক
ফাহিম সিনহা সদস্য ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী

বিশ্লেষক মন্তব্য: সংস্কারের নামে বিসিবিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিবারতন্ত্রের প্রবেশ ঘটল কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আইসিসি যদি এই কমিটিকে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করে, তবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হুমকির মুখে পড়তে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...