শিরোনামঃ
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পাবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালিজম’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসক নাসিরের ওপর হামলার প্রতিবাদ: কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে পাবনায় চিকিৎসকদের মানববন্ধন মসজিদে মানত দিতে গিয়ে অপহৃত তরুণ-তরুণী: ২৪ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে উদ্ধার, পালাল দুর্বৃত্তরা গবেষণাধর্মী ও সবুজ ক্যাম্পাসের প্রত্যয়ে পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. শামীম স্লিপ ডিভোর্স নোটিশ ছাড়াই ফোনে ডাক: ডিসি নিয়োগের ফিটলিস্ট ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ সব বাধা কাটল আইভীর: ১২ মামলাতেই জামিন বহাল, শিগগিরই কারামুক্তি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি: দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

রাজস্ব ঘাটতির জের: এক মাসেই ট্রেজারি বিল থেকে সরকারের ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দৈনন্দিন ব্যয় ও পুরনো ঋণ মেটাতে ট্রেজারি বিলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সরকার। কেবল গত এপ্রিলেই ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে বাজার থেকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা তার আগের মাস মার্চের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপুল অঙ্কের অর্থের মধ্যে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকাই ব্যয় হয়েছে আগে নেওয়া ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ করতে। ফলে গত মাসে সরকারের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকায়। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, রাজস্ব আদায় না বাড়িয়ে এভাবে চড়া সুদে ঋণ করার প্রবণতা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের এই ঋণ নেওয়ার প্রতিযোগিতায় ট্রেজারি বিলের সুদের হারও হু হু করে বাড়ছে। গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ৯১ থেকে ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুদের হার বেশি হওয়া এবং সরকারি বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এখন বেসরকারি খাতে বা উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার চেয়ে সরকারকে অর্থ দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশে। অর্থনীতিবিদ ও অর্থ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংকগুলোর এই ‘সহজ মুনাফা’ খোঁজার প্রবণতা বেসরকারি বিনিয়োগকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় অশনিসংকেত।

সরকারের এই মাত্রাতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার মূল কারণ হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চরম ব্যর্থতা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই শুল্ক ও কর আদায়ে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর শর্ত মেনে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর চাপ থাকলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। ফলে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ সরকারি ব্যয়ের গতি বাড়ায় বাধ্য হয়েই সরকারকে অভ্যন্তরীণ ঋণের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

ধারাবাহিক এই ঋণ গ্রহণের ফলে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মতো শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, আয় না বাড়িয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটানোর এই কৌশল অর্থনীতিতে বুমেরাং হতে পারে। বাজারে এমনিতেই দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে; তার ওপর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণ বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ধার করে সুদ টানার এই পুরনো দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকারকে অবিলম্বে কর ফাঁকি রোধ, এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়ে নতুন করদাতাদের করজালের আওতায় আনার মাধ্যমে নিজস্ব আয় বাড়ানোর দিকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ যাতে ব্যাংকের বদলে সরাসরি ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থাকেও আরও সহজলভ্য করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সূত্র: আজকের কাগজ


এ জাতীয় আরো খবর...