সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

চলুন ওদের থামাই

বাদল সৈয়দ / ৩ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

শিশু ও নারী নির্যা*তন নিয়ে দেশের সবাই চিন্তিত। এটি সরকারেরও মাথাব্যথার কারণ। কয়েকদিন ধরে চিন্তা করছিলাম- সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে কিছু করা যায় কিনা?
মোটিভেশনাল কথাবার্তা দিয়ে এসব বিকৃত মানুষকে ঠিক করা যাবে না- এমনকি সচেতনামূলক প্রচারণা নিয়েও এ সমস্যা সমাধান পুরোপুরি সম্ভব নয়।
তাহলে কী করা যায়?
ভাবতে ভাবতে মনে হলো- বিভিন্ন এমব্যাসি ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া লিংক নেয় কেন?
আমার ধারণা- সম্ভবত তারা আবেদনকারীর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং করে তার ব্যাপারে ধারণা নেওয়ার জন্য লিংক নেন। তারপরও হিউম্যান প্রোফাইলিং নিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এমন একজনের সাথে কথা বললাম। তিনি কিছু পেপারও পাঠালেন- সেগুলো পড়লাম। দেখলাম আমার ধারণা একদম মিথ্যে নয়।
সোশ্যাল মিডিয়া লিংক নেওয়া হয়, কারণ সেখানে আবেদনকারীর পোস্ট, শেয়ার, রিয়্যাকশন, কমেন্ট, ছবি, ভিডিও, এগুলো দেখে তার মনমানসিকতা সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব। তিনি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি কিনা বা কোনো প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন কিনা তাও সোশ্যাল মিডিয়া লিংক ঘেঁটে অনুমান করা সম্ভব।
আমরাও চেষ্টা করলে বিভিন্ন ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, কমেন্ট, শেয়ার, ছবি, ভিডিও এগুলো দেখে যৌন বিকৃত মানুষ চিহ্নিত করতে পারি। হয়তো এদের মাঝেই লুকিয়ে আছে নারীর প্রতি হুমকি। তারপর কিছু কাজ করতে পারি যা এদের জীবনকে কঠিন করে তুলবে।
কাজগুলো কী?
কারো পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা কমেন্টে যদি শিশু বা নারীর প্রতি হুমকির আভাস থাকে, ধর্ষ*কা*মীতার আভাস থাকে, তবে নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে।
১) এদের পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে পোস্ট করা। যাতে সবাই সাবধান হয়।
২) পরিচিতজনদেরও একই কাজ করার অনুরোধ জানানো যায়। এক্ষেত্রে শেয়ার নয়, তাঁরাও পোস্ট করবেন। শেয়ার করলে রিচ কম হয়।
৩) এরা যদি চাকরিজীবি হয় এবং কোথায় চাকরি করে জানা যায় তবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে এদের ব্যাপারে ইমেইল করা যায়।
৪) যেধরনের প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান (Job placement Company) করে সেগুলোতে স্ক্রিনশট পাঠিয়ে এদের চাকরি এদের ব্যাপারে সতর্ক করা।
৫) বিভিন্ন কোম্পানিতেও এদের ব্যাপারে মেইল করা যায়। আজকাল অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এধরনের অভিযোগ বেশ সিরিয়াসলি নেন এবং তাঁরা এধরনের রেকর্ড সংরক্ষন করেন।
৬) নিশ্চিত প্রমাণসহ জানানোর পরও ব্যবস্থা না নিলে এদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নীরবতার ব্যাপারটা সবাইকে জানানো যায়।
৭) প্রবাসী হলে সেদেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে স্ক্রিনশট ইমেল করা যায়। তাঁরা এগুলোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন।
৮) এদের সাথে ব্যাবসা-বাণিজ্য না করা।
৯) ডিসি, এসপি এবং ইউএনও অফিসে এদের ব্যাপারে জানিয়ে রাখা যায়
১০) অনেক সময় ফেক বা লকড আইডি থেকে এরকম পোস্ট, কমেন্ট করা হয়। সেক্ষেত্রে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে জানানো যায়। তাঁরা ফেইক ও লকড আইডি ট্র্যাক করতে সক্ষম।
আমরা চেষ্টা করলে এসব লোকের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি।
শিশু এবং নারীর নিরপত্তা রক্ষায় সচেতন নাগরিকদেরও ভূমিকা আছে।
আসুন সে দায়িত্ব পালন করি।
প্রতিটি নারী ও শিশু নিচের ছবির মতো নিরাপদ পরিবেশে নিশ্চিন্তে থাকুক। আনন্দে থাকুক।
পাদটিকা: ১) শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে উপরের একটি পদক্ষেপও নেওয়া উচিত নয়।
২ ) আপনি কি ধারণাগুলোর সাথে একমত? নতুন কোনো পয়েন্ট মাথায় এলে দয়া করে জানাবেন। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য লেখাটি শেয়ার করতে পারেন।
-আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...