আমি ছাত্রজীবনে টিউশনি করতাম। এ আয় থেকে বই কিনতাম- সিনেমা দেখতাম- শখের জামা-জুতো কিনতাম।
সুনাম থাকায় বেশ ভালো বেতনেই আমাকে অভিভাবকরা ডাকতেন।
একদিন বিকেলে এক ভদ্রলোক বাসায় এলেন। পোশাক মলিন, চেহারায় দারিদ্র। তিনি নাকি আমার সাথে কথা বলতে চান।
দরজা খুলেছিলেন আব্বা। তিনি তাঁকে বসার ঘরে বসিয়ে আমাকে ডাকলেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘চাচা, আপনি কি আমার কাছে এসেছেন।’
‘আমার ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। পড়াশোনায় বেশ ভালো। তারে একটা টিচার দিতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আমি গরিব মানুষ, টাকা দিয়া টিচার দেওয়ার ক্ষমতা নাই। তুমি যদি তারে পড়াও আমি খুব খুশি হবো। সবাই তোমার কথা কয়। তবে আমি বাবা টাকা দিতে পারব না, কিন্তু তোমারে প্রতিদিন খাঁটি গরুর দুধ খাওয়াব। আমি গরু পালি।’
আমি সে ছেলেটিকে দুই বছর পড়িয়েছিলাম। ভদ্রলোকের অনুরোধ খুব বুকে বিঁধেছিল। তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন। প্রতিদিন পরম যত্নে নিজের হাতে এক গ্লাস দুধ নিয়ে আসতেন।
১৯৯২ সাল।
ছেলেটির রেজাল্ট দিলো।
আমার সেদিন জ্বর। তাই তার বাসায় রেজাল্ট জানতে যেতে পারিনি।
সন্ধ্যার পর দরজায় দুমদাম শব্দ।
আব্বা তাড়াহুড়ো করে তা খুললেন।
আমি ভেতরে শুয়ে শুয়ে ভাবছি- কে এত হুলুস্থুল করছে?
একটু পর একটি ছায়া যেন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ভদ্রলোক আমাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদছেন। তাঁর ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর চোখেও জল।
আমি পরম তৃপ্তি নিয়ে চোখ মুছছি- ছাত্রের কাছে হেরে যাওয়ার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই।
এ জাতীয় আরো খবর...