শিরোনামঃ
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি রামিসা হত্যা: আদালতে তৃতীয় ব্যক্তি ‘ডলার’কে দুষলেন সোহেল ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ছাড়ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া জঙ্গল সলিমপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এগারো বাহিনীর রামরাজত্ব এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিলে আসছে নতুন নেতৃত্ব সাগরতলের নিরাপত্তা রক্ষায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বানাচ্ছে আকুস কুমিল্লায় এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও নতুন বিধি যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে ইসি সচিবালয়। প্রস্তাবিত নতুন এই বিধিমালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি বিশেষ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে। এই অঙ্গীকারনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে, নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে ওই প্রার্থীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রার্থী এই অঙ্গীকারনামায় মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আইনগত সুযোগ থাকবে। এই নতুন বিধানটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ দলের পদধারী নেতা ও কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে বাধ্য হয়েই দূরে থাকতে হবে। উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহারে মানুষ হত্যার দায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর জাতীয় সংসদে এই সংক্রান্ত বিলটি পাশ করা হয়, যার ফলে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। এবার সেই একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় নির্বাচনেও তাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রচলিত বিধানটি বাতিল করা হচ্ছে এবং অঙ্গীকারনামা প্রদানের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই আচরণ বিধিমালার খসড়ায় সরকারি সুবিধাভোগী ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞাতেও ব্যাপক রদবদল আনা হচ্ছে। বর্তমানে এই সংজ্ঞার অধীনে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়ররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা আইন অনুযায়ী কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার চালাতে বা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু নতুন খসড়ায় এই তালিকার সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের নামও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মন্ত্রী বা এমপিদের মতো তারাও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো প্রচারণায় বা নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। এর আগে ২০১৫ সালে কাজী রকিব উদ্দীন নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময়েও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়ররা রাষ্ট্রীয়ভাবে সুবিধা পান কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেবার সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়, যার ফলে পরবর্তীতে নির্বাচনে তাদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। ইসির কর্মকর্তারা ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে, গত ২৪ মে শেষ কর্মদিবসে এই আচরণ বিধিমালার খসড়া কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে পর্যালোচনার জন্য হস্তান্তর করেছেন। খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনাররা এই খসড়াটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য তৈরি করা এই আচরণ বিধিমালার খসড়াটিকে মূলত একটি ‘মডেল’ হিসেবে কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন এই খসড়ার যেসব সংশোধনীতে একমত পোষণ করবে, পরবর্তীতে সেগুলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের নিজ নিজ ধরন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আচরণ বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালার এসব সংশোধনী নিয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান খসড়াগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনাররা এই প্রস্তাবগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব মতামত প্রদান করলে এতে আরও নতুন কিছু সংশোধনী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন যে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধানটি তারা অবশ্যই রাখবেন। তবে এটি নির্দিষ্টভাবে আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, কোনো একক দল বা সংগঠনকে সামনে রেখে এই বিধি তৈরি করা হচ্ছে না; বরং বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব দল নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দেশে বিদ্যমান অন্যান্য আইনকে বিবেচনায় নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি, তবে শিগগিরই সব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় প্রতীকে আয়োজন করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনী পাশ করা হয়েছে। এই সংশোধিত আইনের আলোকে ইসি কর্মকর্তারা আচরণ বিধিমালা ও পরিচালনা বিধিমালা থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ সংশ্লিষ্ট সমস্ত শব্দ ও অংশগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার একটি অভিনব প্রস্তাব করেছেন। খসড়া আচরণ বিধিমালাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, অন্তত ১০টিরও বেশি বিধি ও উপবিধি থেকে ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দটি বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিধি-২(১১), (১৩) ও (১৬), ৩, ৪, ৫, ৭, ১৩, ১৮, ২৯ এবং ৩১। এই সংশোধনীটি যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের মাঝে কোনো চাঁদা বা অনুদান বিতরণ করলে, অথবা রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় কোনো সভা-সমাবেশ আয়োজন করলে তা আটকানোর আইনগত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে। এমনকি বর্তমান বিধিমালার ৩১(২) উপবিধি অনুযায়ী দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার যে বিধানটি রয়েছে, সেটিও বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার বিধান বাতিল হওয়ার কারণেই বেশ কয়েকটি বিধি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ক্ষেত্রগুলোতে ইসি মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি বিরোধে জড়াতে চায় না বলেই এমন প্রস্তাব আনা হয়েছে। এছাড়াও, বিধি-৫ এর অধীনে প্রচারণা চালানো, বিধি-৭ এর অধীনে সভা-সমাবেশ করা, বিধি-১৩ এর অধীনে যানবাহন নিয়ে শোডাউন করা, বিধি-১৮ এর অধীনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিধি-২৯ এর অধীনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে বিনা কারণে ঘোরাফেরা করার ক্ষেত্রেও ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে নির্বাচনের এমন স্পর্শকাতর সময়ে রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার এই প্রস্তাবিত বিধানটি ইসির জন্য শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদিও নির্বাচনগুলো নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু পরোক্ষভাবে সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল প্রভাব থেকেই যাবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত প্রকাশ্যে তাদের নিজস্ব প্রার্থী নির্ধারণ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, অন্যান্য দলগুলোও মাঠে তাদের তৎপরতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন যে, অতীতের অনেক নির্বাচনেই এটা স্পষ্ট দেখা গেছে যে নির্দলীয় প্রতীকের নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি প্রার্থী মনোনয়ন না দিয়েও নির্দিষ্ট কাউকে সমর্থন দিয়ে থাকে। পরবর্তীতে দলটির নেতাকর্মীরা সেই প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এবং নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে, যা বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনগুলোতে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে না, এমনটি কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই ইসি যদি এখনই দলগুলোর ওপর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে নেয়, তবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত কোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

আচরণ বিধিমালার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত সামগ্রীর বিষয়েও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মানুযায়ী, নির্বাচনে কাগজের তৈরি পোস্টার এবং রেক্সিনের তৈরি যেকোনো প্রচার সামগ্রীর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে প্রার্থীরা চাইলে কাপড় ও চটের তৈরি ব্যানার এবং ফেস্টুন প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে; সেখানে শুধুমাত্র প্রার্থী নিজের এবং তার বরাদ্দকৃত প্রতীকের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রধানের ছবিও এসব প্রচার সামগ্রীতে ছাপাতে পারবেন না। প্রার্থীরা বিলবোর্ডের মাধ্যমেও নিজেদের প্রচার চালাতে পারবেন, তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি বিলবোর্ডই স্থাপন করার অনুমতি দেওয়া হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারের খসড়া বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রার্থীরা এখন থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে তাদের নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এখানেও এই ডিজিটাল প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বিষোদ্গার বা মানহানিকর প্রচার চালানো যাবে না। এতসব পরিবর্তনের মাঝেও একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের আচরণ বিধিমালায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তদন্ত সাপেক্ষে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের যে চূড়ান্ত ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালায় ইসির সেই ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো বিধান যুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে কোনো নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা মেয়র নেই, বরং অনির্বাচিত প্রশাসকেরাই এসব স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানে সবার আগে ভোট গ্রহণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন। তবে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন যে, প্রথমেই যদি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তবে সেখানে অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা না থাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ এমনিতেই কম থাকবে। কিন্তু পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অন্যান্য নির্বাচনগুলোতে প্রভাব বিস্তার রোধ করতেই মূলত আচরণ বিধিমালায় এই ব্যাপক পরিবর্তন ও সংশোধনীগুলো আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...