শিরোনামঃ
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি রামিসা হত্যা: আদালতে তৃতীয় ব্যক্তি ‘ডলার’কে দুষলেন সোহেল ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ছাড়ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া জঙ্গল সলিমপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এগারো বাহিনীর রামরাজত্ব এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিলে আসছে নতুন নেতৃত্ব সাগরতলের নিরাপত্তা রক্ষায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বানাচ্ছে আকুস কুমিল্লায় এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি

বাদল সৈয়দ / ৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

জেসমিন আপা ছিলেন আমার স্ত্রীর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। অনেক আগে অবসরে গেছেন। তিনি তাঁর প্রাক্তন ছাত্রীকে খুব স্নেহ করতেন। সাথে আমাকেও।
কয়েক বছর আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর সাথে দেখা। কথায় কথায় তিনি বললেন- ‘তোমরা মেয়ের স্কুলে প্যারেন্ট-টিচার মিটিংয়ে নিয়মিত যাও তো? ওটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।‘
আমরা বললাম- ‘যাই, আপা।’
তিনি বললেন- ‘সেখানে কী ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো?’
একটু অবাক হয়ে বললাম- ‘কেন! মেয়ের পড়ালেখার ব্যাপারে।‘
তিনি মৃদু হেসে বললেন-
‘ত্রিশ বছর টিচার ছিলাম। অনেক প্যারেন্ট-টিচার মিটিংয়ে গার্ডিয়ানদের সাথে দেখা হয়েছে। দেখেছি, সবাই একই ভুল করে।‘
‘কী ভুল?’
আমরা আরো বিস্মিত।
তিনি বললেন- মাসে-দুই মাসে একবার টিচারের সাথে দশ-পনের মিনিট সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাও। সে সময়টা বাচ্চার পড়ালেখার কথা জিজ্ঞেস করে সময় নষ্ট করার কী দরকার? তা তো ওর মার্কশিট দেখেই জানা যায়। হ্যাঁ- যদি ও খারাপ করে তাহলে অবশ্যই দুর্বলতা কোথায় তা নিয়ে টিচারের সাথে আলাপ করবে। তা না হলে মিটিংয়ে অন্য কিছু বিষয়ে আলাপ করা উচিত।
আমরা বললাম- ‘কী বিষয়ে জিজ্ঞেস করব?’
তিনি বললেন- ‘রেজাল্ট ছাড়াও আরো কিছু বিষয় গার্ডিয়ানের জানা উচিত। তাই জিজ্ঞেস করবে-
১ ) স্কুলে অনেক সময় কঠিন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়। বাচ্চাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। ক্লাস টেস্ট খারাপ হতে পারে। এরকম কত কিছু…। টিচারকে জিজ্ঞেস করবে মেয়ে কীভাবে মোকাবেলা করে? এর মাধ্যমে তার মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হচ্ছে কিনা তা বুঝতে পারবে। যদি দেখো, সে অল্পতেই ভেঙে পড়ে তাহলে তা যাতে কাটিয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে সাবধান হতে পারবে।
২) ও যখন কোনো গ্রুপ ভিত্তিক কাজ করে তাহলে ও কি নেতৃত্ব দেয়- নাকি পেছনে থাকে, নাকি একেবারেই বিচ্ছিন্ন ও চুপচাপ থাকে। যদি নেতৃত্ব দেয় তাহলে বুঝতে পারবে ওর মধ্যে লিডারশিপ কোয়ালিটি ডেভেলপ করছে। নেতৃত্ব দেয় না, কিন্তু দলের কাজে অংশ নেয়- তাহলে বুঝবে ওর মধ্যে টিম স্পিরিট কাজ করছে। কিন্তু দলে থেকেও যদি সে বিচ্ছিন্ন ও চুপচাপ থাকে তাহলে সমস্যা। তখন বুঝতে হবে- ও খুব বেশি অন্তর্মুখি হয়ে যাচ্ছে- নিজের খোলসে গুটিয়ে আছে। এটা ভালো নয়। তাই সাবধান হতে পারবে।
৩) সে কি ক্লাসে প্রশ্ন করে? যদি ও প্রশ্ন করে বুঝবে তার মন কৌতূহলী। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে বোঝা যায়, তার Cognitive Development হচ্ছে কিনা।
সহজ কথায়, তার চিন্তা, যুক্তি, স্মৃতি, সমস্যা সমাধান এবং পরিবেশ সম্পর্কে বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা। কৌতূহল এই Cognitive development- এর অন্যতম চিহ্ন।
৪) সে স্কুলের নিয়ম-কানুন মেনে চলে কিনা। এতে বুঝতে পারবে সে ডিসিপ্লিনড হয়ে উঠছে কিনা?
অনেকক্ষণ কথা বলে আপা থামলেন। তারপর মিষ্টি হেসে বললেন- ‘সবার শেষে টিচারকে বলবে-
‘ আমাকে অন্তত একটি কাজের কথা বলুন, যা ওর আরো ডেভেলপমেন্টের জন্য আমি বাসায় করতে পারি।‘
এ ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ সেরা হতে বাধ্য। কারণ তিনি মাসে প্রায় বিশদিন খুব কাছ থেকে তোমার বাচ্চাকে দেখেন। এমনকি হয়ত তোমার চেয়েও তিনি তার সাথে বেশি সময় কাটান। তাই তিনি তাকে খুব ভালোভাবে জানেন।‘
এমন সময় হোস্টদের একজন খেতে ডাকলেন। আপা আমাদের পাশের চেয়ারে বসেছেন। তিনি আমাদের দিকে ঝুঁকে বললেন-
‘বাচ্চাকে বোঝার জন্য টিচার খুব ভালো আয়না। সেই আয়নায় যা দেখা যায় মার্কশিটে তা দেখা যায় না। সমস্যা হচ্ছে, আমার ত্রিশ বছরের শিক্ষকজীবনে প্রায় সবাইকে রেজাল্ট নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখেছি। বাচ্চার অন্যান্য বিকাশ নিয়ে ঘামাতে খুব কমজনকে দেখেছি। তোমরা ওই ভুল করো না।’
ছবি: নাতনির (ভাগ্নির মেয়ে) স্কুলে। সেদিন তার স্কুল জীবন শুরু হয়েছিল। ওর জন্য দোয়া করবেন।
লেখাটি শেয়ার করা যাবে।
-আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...