বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

রচনার বিরুদ্ধে থানায় আরজিকর কাণ্ডের নতুন অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও রাজ্য সরকার বদলের পর এবার বড়সড় আইনি বিপাকে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরজিকর হাসপাতালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতার চারু মার্কেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এক আইনজীবী এই অভিযোগটি দায়ের করেন।

কী ঘটেছিল দেড় বছর আগে

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে যখন আরজিকর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ তোলপাড় হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ। অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, ওই ভিডিও বার্তায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে চার থেকে পাঁচবার সরাসরি সেই নিহত নির্যাতিতা চিকিৎসকের আসল নাম উচ্চারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে রচনার সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ভাইরাল হয়ে যায়।

দেড় বছর পর কেন নতুন করে অভিযোগ

২০২৪ সালের সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার দীর্ঘ দেড় বছর পার হওয়ার পর ২০২৬ সালের এই জুন মাসে এসে কেন নতুন করে রচনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

থানা থেকে বের হয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগকারী আইনজীবী এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে আরজিকর ঘটনার পরপরই তিনি তখনকার কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনবিরুদ্ধ কাজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন শাসক দলের রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ প্রশাসন সেই সময়ে এই তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ ২০২৬ সালের জুন মাস চললেও এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রচনার সেই বিতর্কিত ভিডিওটি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটার পরপরই তিনি এই আইনলঙ্ঘনকারী সাংসদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে পুনরায় চারু মার্কেট থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

পুলিশের পদক্ষেপ ও নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি

অভিযোগকারী আইনজীবী দাবি করেছেন যে, একজন জনপ্রতিনিধি বা সাংসদ হয়েও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ সচেতনভাবে দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ইতিমধ্যে দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট থানার পুলিশ ওই আইনজীবীর লিখিত অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যাতে খুব দ্রুত একটি নিয়মিত মামলা বা এফআইআর দায়ের করা হয়, সেই বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ওই আইনজীবীর আইনি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই উত্তাল সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনার এই আইনি সংকট আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এ জাতীয় আরো খবর...