বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

‘শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান নিয়ে টিকে থাকা কঠিন’: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের আত্মত্যাগ, সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি শান্তিরক্ষীদের বীরত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলার বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতিসংঘ মিশনে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেক আহত হয়েছেন।… শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

মাতৃভূমির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন:

“তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।”

সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাস এবং এর ওপর বিভিন্ন সময়ের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। ২০০৯ সালের ট্র্যাজেডির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন:

“বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চললেও ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর উপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতটির ফলে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। সুতরাং, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।”

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:

“শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে কিংবা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা দেশে কিংবা বিদেশে যেখানে যেই দায়িত্ব পালন করছি সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার।”

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন তিনি। সাইবার যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন হুমকিগুলোর বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন:

“পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর।”

এদিন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয়জন সেনাসদস্যের স্ত্রী ও সাম্প্রতিক মিশনগুলোতে আহত সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন। এছাড়া বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কুশল বিনিময় করেন।


এ জাতীয় আরো খবর...