বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবে: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তথ্য উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাঠে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “আমি মনে করি তারা মাঠে প্রতীকী কারণে আছেন। টেকনিক্যালি পরিষ্কার করা দরকার যে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—তা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, তা দীর্ঘ বিচারের পর নির্ধারিত হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিচার সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এই অবস্থায় দলটি যদি মাঠে কোনো কর্মসূচি নিয়ে নামার চেষ্টা করে, তবে তা সরাসরি আইনভঙ্গকারী কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করে ফেলবে, সরকার এমনটা মনে করে না। অনেক কিছু করে ফেলার মতো নৈতিক সাহসও তাদের নেই। দেশের সব মানুষের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম হলে তখনই হয়তো তারা বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে নয়। কারণ মাফিয়া, চোর-বাটপার ও লুটপাটকারীদের কোনো নৈতিক সাহস থাকে না।” তিনি আরও যোগ করেন, বড় ধরনের ক্ষমতা না থাকলেও ছোটখাটো নাশকতা করার সক্ষমতা হয়তো দলটির রয়েছে। সেই বিবেচনায় দেশের যে কয়েকটি জেলায় ঝুঁকি কিছুটা বেশি মনে হয়েছে, সেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে বাড়তি সতর্কতাস্বরূপ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কী হবে, সেটি বিএনপির কাছেই জানতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। সফরটিকে অত্যন্ত সফল দাবি করে তিনি জানান, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-এ বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হতে মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর বাইরে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সবশেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সরকার অত্যন্ত আশাবাদী যে খুব দ্রুতই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য আবার চালু হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...