সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো মার্কিন হামলা: ভেঙে পড়ছে যুদ্ধবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে গত ১৭ জুন সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসনের’ জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়। হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, ড্রোন মজুতকেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রাম এবং কেশম দ্বীপে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী ওই ট্যাঙ্কারটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সেন্টকম জানিয়েছে। জাহাজটি আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এমন চলতে থাকলে আমরা আর ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যা শুরু করেছি তা সামরিকভাবে শেষ করতে বাধ্য হব।” ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, পরিস্থিতি যদি এমন চলতে থাকে, তবে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরও দফায় দফায় এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা বাজছে। উভয় পক্ষই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো ওয়াশিংটনের জন্য চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


এ জাতীয় আরো খবর...