বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দিয়েছি: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে দেশটির সক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানকে ‘অনেকটাই পাথর যুগে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও ‘৯০ শতাংশ শেষ’।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটিকে ‘অনেকটাই পাথর যুগে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে’। তার ভাষ্য, ইরানের ‘ক্ষমতা অনেকটাই কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘তাদের এখনও কিছু আছে, তবে অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাদের সামরিক বাহিনীর ১৫৯টি জাহাজ ছিল; এখন সেই ১৫৯টি জাহাজই সমুদ্রের তলদেশে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘তাদের ২০০টি যুদ্ধবিমান ছিল; এখন সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের রাডার নেই, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার প্রায় ৮৪ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। মোটের ওপর তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।’

তিনি বলেন, ‘চার মাস আগের ইরান আর এখনকার ইরান এক নয়’। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘চার মাসের মধ্যে আমরা তাদের অনেকটাই পাথর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে এবং সামান্য কিছু সক্ষমতা রয়েছে। তবে মোটের ওপর তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবস্থায় চলে গেছে।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দাপুটে শক্তি। কিন্তু তারা আমার সঙ্গে দাদাগিরি করতে পারবে না।’

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান শুধু সামরিক সক্ষমতাই হারায়নি, তাদের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররাও নিহত হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনও নৌবাহিনী নেই, কোনও বিমানবাহিনী নেই। সব শেষ। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাদের নেতারা সবাই নিহত হয়েছেন। তাদের সবচেয়ে দক্ষ নেতারাও নিহত হয়েছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নেতাদেরও হত্যা করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আর নেই। খোমেনি চলে গেছেন’। এ সময় তিনি ১৯৮৯ সালে মারা যাওয়া ইরানের বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাম ব্যবহার করলেও, তিনি মূলত সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত হওয়া আলি খামেনির কথাই উল্লেখ করছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘তার ছেলে ৯০ শতাংশ শেষ।’

মোজতবা খামেনিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি আহত হন এবং একই হামলায় তার বাবা আলি খামেনিও নিহত হন। এরপর থেকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতির কার্যত অবসানও ঘটেছে।

গত সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক দফা হামলার নির্দেশ দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে। পৃথকভাবে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরাপদে চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের জাহাজগুলোর কাছ থেকেও অর্থ আদায় করবে। এতে বিশ্বজুড়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

এর জবাবে ইরান বাহরাইন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত-সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।


এ জাতীয় আরো খবর...