শিরোনামঃ
*ছেলের জন্য পাত্রী: ১০টি পরামর্শ ও ১টি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন* অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর স্পিকারের জন্য বিশেষ প্রটোকল গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল লন্ডনের হোটেলে অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি রাজপুত্রের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ট্রাম্প যেভাবে উল্টে দিলেন সৌদি পরমাণু চুক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, অপরাধ বেড়েছে: জামায়াত আমির ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দেশে জন্ম নেওয়া অর্ধেক শিশু সিজারের শিকার তীব্র গ্যাস সংকট: বন্ধের মুখে দেশের শত শত কারখানা
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণ দেখিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের শীর্ষ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আইনের বিধান মেনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

স্পিকারের কাছে পাঠানো চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি সংবিধানের প্রতি আনুগত্য রেখে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। চিঠিতে নিজের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও কিডনির নানা জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি জটিল স্নায়ুবিক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই বিরল ব্যাধির কারণে তিনি মাঝে মাঝেই ক্ষণিক সময়ের জন্য পুরোপুরি চেতনা হারিয়ে ফেলছেন, যা সার্বিক প্রশাসনিক কাজের জন্য বিপজ্জনক।

পদত্যাগপত্রে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরও ব্যক্ত করেন যে, এসব জটিল ব্যাধির প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের গুরুদায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। সুস্থতার জন্য তার দীর্ঘমেয়াদী নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন। ফলে কোনো উপায়ান্তর না দেখে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের দেওয়া বিশেষ ক্ষমতাবলে তিনি স্বজ্ঞানে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। পদত্যাগের আগে একটি জাতীয় গণমাধ্যমের সাথে ফোনালাপে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা পুনরুল্লেখ করে তিনি জানান যে, অসুস্থতার বিষয়টি সবার জানা এবং সেই কারণেই তিনি বিদায় নেওয়ার আইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির মাধ্যমে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা ও অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট করে যে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপ্রধানের আসন শূন্য হলে পরবর্তী সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক, যা ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...