আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে আজও সংরক্ষিত রয়েছে একটি জীপ গাড়ি। গাড়িটি ব্যাবহার করতেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তৎকালীন সময়ে দেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং সার উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সার কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়।
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন ও এর কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আগমন করেন।
এদিকে, ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। খনন কাজের অগ্রগতি ও খাল পরিদর্শনের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জীপ গাড়ি ব্যবহার করতেন সেটি বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত রয়েছে।
সময়ের ব্যবধানে গাড়িটি এখন একটি ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শুধু একটি যানবাহন নয়, আশুগঞ্জে সংরক্ষিত এই জীপটি দেশের কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিও বহন করছে। খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সার শিল্পের সম্প্রসারণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সময়কাল জড়িয়ে থাকায় ঐতিহাসিক গাড়িটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ ও কৌতূহল।
আশুগঞ্জ সার কারখানা ও সোনারামপুরের খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে এই স্মৃতি বিজড়িত গাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে এটি দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব।
গাড়িটির বর্তমান চালক আলমগীর মিয়া বাসস’কে জানান, তার পিতা মো.জাহাঙ্গীর মিয়া ২৬বছর গাড়িটি চালিয়েছেন। গত ২২ বছর ধরে তিনি গাড়িটি চালাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাড়িটির ইঞ্জিন সচল আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য মাঝে মাঝে চালক আলমগীর হোসেন চালিয়ে দেখেন। গাড়িটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত।
তার স্মৃতি হিসেবে এখনো যত্ন করে গাড়িটিকে আশুগঞ্জ সার কারখানার ভিতরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এটির ইঞ্জিন সচল আছে বলে জানান চালক। আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বাসস’কে বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী জরাজীর্ণ জিপ গাড়ীটিকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় এখনো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাসস’কে জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সোনারামপুরে খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছিলেন এই গাড়ীটিতে চড়ে। এ সময় একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতসহ এই গাড়িটিতে চড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফর সঙ্গী ছিলেন। ইতিহাসের সাক্ষী এই গাড়িটি আশুগঞ্জ সার কারখানায় সংরক্ষণে রাখা রয়েছে।