শিরোনামঃ
বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করলো সরকার মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল নিনোর ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ শিশু : ইউনিসেফ জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা: এক বিপজ্জনক খাদের কিনারে অর্থনীতি ও জনজীবন দাদা-দাদি, নানা-নানিদের প্রতি গর্ভবতী অবস্থায় মায়েদের কোমর ব্যথায় করণীয় অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজির ঘাটতি নেই, আসছে ১৯ কার্গো: পেট্রোবাংলা প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্ভাবনার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: মাহদী আমিন উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করলো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ কেনার দাম এবং সেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পাঠানোর মাশুল ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে বিতরণ সংস্থাগুলো। অক্টোবর মাস থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্য কেনার সময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৩৩ কিলোভোল্ট স্তরে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কিলোভোল্ট স্তরে ৭ টাকা ১১ পয়সা দেবে। বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো যেন এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ করতে পারে, সে জন্য মাশুলও নির্ধারণ করা হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের মাশুল ২৩০ কিলোভোল্ট স্তরে ইউনিটপ্রতি ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা করে দিতে দিবে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে।

বিতরণ লাইনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের মাশুল ঠিক হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার প্রান্তে বিতরণ প্রতিষ্ঠান ভিন্ন হলে ১৩২, ৩৩, ১১ ও ০.৪০ কিলোভোল্ট স্তরে ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা দিতে হবে। আর বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রান্তে ২৩০ থেকে ০.৪০ কিলোভোল্ট পর্যন্ত সব স্তরে মাশুল ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা।

নবায়নযোগ্য কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় ও বিলিংয়ের জন্য একক ক্রেতা হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয় ও নিষ্পত্তি মাশুল ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৫ পয়সা। পরিচালনা পদ্ধতি, বিলিংয়ের কাঠামো, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির শর্তাবলিও আদেশে ঠিক করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়। পরে ৭ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এবং ছয়টি বিতরণ কোম্পানি আলাদা প্রস্তাব দেয়। সব প্রস্তাব যাচাই করে ২৩ আগস্ট হয় গণশুনানি। শুনানিতে প্রস্তাবকারী পক্ষগুলোর আবেদন, দাখিল করা কাগজপত্র ও সবার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সরকার নানান উদ্যোগ নিয়েছে। যার একটি হলো মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট বা বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। নতুন এই পদ্ধতিতে বড় শিল্প ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সরাসরি বেসরকারি উৎপাদকের সঙ্গে দরদাম করে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। এই ক্ষেত্রে দাম ঠিক করবে ক্রেতা ও বিক্রেতা, আর সরকারি বিতরণ সংস্থার জন্য কেনা বিদ্যুতের দাম ঠিক করবে বিইআরসি।

এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় আরেকটি সুবিধা হলো-দেশের যেকোনো স্থানে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে তা যেকোনো প্রান্তে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিইআরসিকে নির্ধারিত মাশুল দিতে হবে।

সরকার ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গেজেটে প্রকাশ করে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। এতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি ও জাতীয় গ্রিডের ব্যবহার আইনি স্বীকৃতি পায়।

সৌর, বায়ু, জীবভর, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন উৎসকে নীতিতে ‘সবুজ’ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ধরা হয়েছে। কেন্দ্র চালাতে বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স লাগবে, আর আইন বা নীতি বদলে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে সরকার সুরক্ষা দেবে বলে নীতিতে উল্লেখ আছে।


এ জাতীয় আরো খবর...