সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমকে। এর প্রায় দুই মাস পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর ও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আরও ছয় মাস করে সময় দেওয়ার আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
এদিকে, সাগর-রুনি হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আইনি লড়াইয়ের জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের অগ্রগতি ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে রিট করে। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এতে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১২ সালে সাগর-রুনি হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তাঁরা রিট করেছিলেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরে পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।