বুধবারের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে পারে এমন একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মঙ্গলবারের এক বুলেটিনে জানিয়েছে, ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরে টাইফুন নামে পরিচিত ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে নজিরবিহীন উষ্ণতা সৃষ্টিকারী এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে এবার ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে, প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে বন্যা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং মাঠে থাকা ফসলের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ আশঙ্কা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঝড়ের গতিবিধি ‘নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের’ নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার তাঁর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কর্তৃপক্ষ নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।